জাতীয় সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, যাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী জানান, রিটটি সরাসরি খারিজ হওয়ায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আইনগত কোনো বাধা নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াধীন ও কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তা জাতীয় সংসদে যথাযথভাবে বিবেচিত হবে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব বা ভোট দিতে পারেন না, যা সংসদীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পরিপন্থী। এছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীন মতামতের সুযোগ সংকুচিত হয়—এমন যুক্তিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গত ৬ আগস্ট ঘোষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এবং পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।