শতভাগ ই-নামজারি ও অনলাইনে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরও সাবরেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না; এমন অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। তিনি বলেন, এসব দুর্নীতিবাজ তহসিলদারের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুয়া দলিলের মাধ্যমে খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে?

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর কাছে এ প্রশ্ন করেন তিনি।

জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় হতে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার কার্যক্রম সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ নিয়মিতভাবে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশ থেকে ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ অনলাইনে দাখিলের জন্য ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করেছে। এখানে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো নিয়মিত নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে ফিডব্যাক দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেমের (জিআরএস) মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তির কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করেও অভিযোগ জানানো যাচ্ছে।’

ভুয়া দলিলের মাধ্যমে খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের খাসজমি ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বে আছেন। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে খাসজমি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি খাসজমির অবৈধ দখল হলে তা দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং দেশের যেকোনো স্থানে খাসজমি অবৈধ দখলের ঘটনা সংঘটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’

ভুয়া দলিলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া দলিল তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমতাবস্থায় ভুয়া দলিলের মাধ্যমে খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের ঘটনা সংঘটিত হলে আইনানুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

তবে সংসদ সদস্যের প্রশ্নে ‘ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়ার’ অভিযোগের বিষয়ে কতজন কর্মকর্তা বা তহসিলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—জবাবে তার কোনো পরিসংখ্যান বা তালিকা দেওয়া হয়নি।