টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে আয়োজন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, সাদপন্থী তাবলীগ জামাতের মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে ইজতেমার আয়োজন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামত গ্রহণের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের সময়ের তুলনায় দেশের অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের হার কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলীগ জামাতের জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।