স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং জনগণের সেবা তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে স্থানীয় নির্বাচন প্রলম্বিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর এখন ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা প্রায় ৩১১টি। কিন্তু সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর না হয়ে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এটি জনগণকে তাঁদের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি নীলনকশা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়োগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ দীর্ঘমেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও বছরের চার মাস বাকি থাকতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এর মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসকদের দ্রুত প্রত্যাহার এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।