গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি বিসিক এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর, শিরিন চাকলাদারের ছেলে পিয়াস এবং কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বাবুল হোসেনের ছেলে সালিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর, মাহমুদুল হাসান (২৫), সেক্রেটারি, আক্তার হোসেন (৩০) ও কর্মী ফাহিম আনোয়ারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে আঘাত গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের সহকর্মীরা জানান, হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে পথরোধ করে মারধর শুরু করে, এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ি থানার ওসি, আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উভয় পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে দুই পক্ষ নিজেরা বসে আপস-মীমাংসায় উপনীত হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এলাকায় যেন পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নির্বাচনী সময়কে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও তৎপরতা ও নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।