দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে প্রত্যয় দীপ্ত হয়ে রুকন সহ ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

গত ১ মে জুমাবার ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল জোন আয়োজিত দিনব্যাপী এক সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জোন পরিচালক হেমায়েত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জোনের সহকারি পরিচালক মু. আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব,কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ড. মুফতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশারের দারসুল কুরআনের মাধ্যমে শুরু হওয়া শিক্ষা শিবিরের আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. মাওলানা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসলাম বিজয়ের পূর্ব শর্ত হচ্ছে দাওয়াত ও গণ সম্পৃক্ততা। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিশ্রাম নেয়ার কোন সুযোগ নেই বরং প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের গণসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। তিনি তুরস্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে দেশে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের সাধ্যমত চেষ্টা করে। এমনকি কেউ হজ্বে গেলেও তারা তাদের পরিবার-পরিজনের খোঁজ-খবর নেন। তাই আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হলেও মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের কল্যাণেই কাজ করতে হবে। তা হলেই ইসলামের বিজয় অনিবার্য হয়ে উঠবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার নতুন করে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারি হয়ে ওঠার হীন মানসিকতা থেকেই জাতিকে সংঘাতের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে বিরোধী দলই এখন প্রধান সমস্যা। তাই সরকারের কোন কোন মন্ত্রী ও কতিপয় সরকার দলীয় সদস্য বিরোধী দল নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর অপতৎপরতা শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্নবিলাস বীর জনতা কখনোই সফল ও স্বার্থক হতে দেবে না। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় এজন্য সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষাশিবির সকাল ৯টায় শুরু হয়ে রাত ৮টায় মুহাসাবা ও সমাপনি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয়।