ময়মনসিংহে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায় কার্যকর এখন সময়ের দাবী’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম শাহরিয়ার কবির, প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, জনগণের রায় গণভোট বাস্তবায়নে এতো তাড়তাড়ি বিএনপি পাল্টে যাবে আমার ভাবতে অবাক লাগতেছে। যে ট্যাবলেট আওয়ামীলীগ বিক্রি করেছে গত ১৭ বছর পানিতে গুলিয়ে খাওয়ানো চেষ্টা করেছে এই তিন মাসে তা শুরু করেছে বিএনপি। বিএনপি বিগত সময়ের এতো নির্যাতনের কথা কিভাবে ভুলে গেলো। আমার মনে হয় বিএনপি কোন ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সুবিচার না হলে ন্যয়বিচার না হলে আপনার মা কি কষ্ট পেয়েছে দেখেন নাই আপনি? গোটা জাতি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলো এই অবস্থা দেখে। আপনাকে যখন ঝুলিয়ে পিটিয়েছে সংবিধান তখন কোথায় ছিলো? এত বলতে চাই লাফালাফি কইরেন নাম, বালুর ট্রাক সরাতে পারেন নাই রিক্সাওয়ালাও বুঝে। আপনার আম্মাকে আটকিয়ে রেখে যে কষ্ট দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ ত্যাগী কর্মী ব্যবসা বাণিজ্যে লুটপাট করতেছে সেদিন তারা কোথায় ছিলো? আমাদের সন্তানেরা রক্তদিয়ে জুলাই আন্দোলন করে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। আজকে যাদের গুপ্ত বলতেছেন এই শব্দটিও ভারত থেকে আমদানী করা। আমরা তো দেশ ছেড়ে পালায়নি। আপনারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আমাদের নেতারা শহীদ হয়েছেন। সুতরাং যারা জীবন দিয়েছে, গণরায় দিয়েছে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। নচেৎ জনগণ রাস্তায় নামলে পরিণতি ভালো হবে না। রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকা করবেন না। আমাদের শহীদের উত্তরসূরীরা জীবিত আছি। যারা আহত পঙ্গুত্ববরণ করেছে সেদিন একটি প্রোগ্রামে আবার তারা শপথ নিয়েছে যে প্রয়োজনে আবার তারা রাস্তায় নামবে। আমরাও আছি তাদের সামনে বুক পেতে দিতে। স্বৈরাচারবিরোধী ডাক পার্লামেন্টে নয় রাজপথে আবার আসবে। তখন পালানো ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
ব্যারিস্টার এ.এস.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনটা ছিলো ভারত বিরোধীতার আন্দোলন। হাসিনা পতনের আন্দোলন ছিলো না। ২০১৩ সালের পর থেকে হাসিনা আর বাংলাদেশ চালাতো না। ২০১৩ পর্যন্ত হাসিনা চালাতো। হাসিনা এর আগে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে একবারও বলে নাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। সে বলেছে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছে, অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছিলো।
১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত একটা বক্তব্যেও পাবেন না যে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। মনবতাবিরোদী বয়ান আসলো ২০০৯ সালে। তারা দেখলো কি একটা দলকে একটা ককটেল ফাটালে সবাই চলে যায় আর বলে ঈদের পর আন্দোলন। আর একটা দল তাদের শহীদী তামান্না এরকম যে একটা মরে গেলে আর একটা দাঁড়ায়। জন্মের পর আমার কানে একামত দেয়া হয়ে গেছে জানাযার, তাই আমার তো এই ভয় নাই।