১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকায় জমায়েত করেন তাঁরা।

পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত পথসভাকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল ৬টা থেকেই পথসভাস্থলে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। পরে আশপাশের সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেও নেতাকর্মী-সমর্থকদের অবস্থান করতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল ছয় দফা দাবিসংবলিত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।

লংমার্চে কুমিল্লায় জনতার ঢল_16x9

পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনজীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং গণভোটে প্রকাশিত রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পথসভায় অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মোস্তফা কামাল বলেন, “গণভোটে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধান এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।”

লংমার্চের গাড়িবহর পদুয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তা স্বাগত জানান। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। গাড়িবহরকে একনজর দেখতে মহাসড়কের পাশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামেও ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক লোকসমাগম হয়। সেখানে আয়োজিত পথসভা একপর্যায়ে জনসভায় রূপ নেয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন।

দাউদকান্দির নিমসার, চান্দিনা, সুয়াগাজী, মিয়াবাজার ও চিওড়া এলাকাতেও লংমার্চকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এসব এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, নিমসারসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মসূচিকে ঘিরে পৃথক পৃথক জমায়েত দেখা যায়। মহাসড়কের দুই পাশে মানুষের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।