গাজীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কটূক্তির অভিযোগে আটক কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে পুরোনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন টিনের মসজিদ এলাকার বাসা থেকে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিফাতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে আলাদা কোনো মানহানির মামলা করা হয়নি। বরং আগের একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, সিফাতের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করছে। এ বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে সিফাতকে এনসিপির কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে দাবি করেছে দলটির নেতারা। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান অভিযোগ করেছেন, সিফাতকে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে আটক করা হলেও পরে তাকে পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনাটিকে তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং সিফাতের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

সিফাতের গ্রেপ্তার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমপি সালাউদ্দিন আইউবীও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সিফাতের বক্তব্যের ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে আপত্তি থাকলেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ সাধারণ মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোগান্তির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে এনসিপি। কর্মসূচি থেকে সিফাতের মুক্তি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সিফাতের মুক্তির দাবিতে গাছা থানায় যাওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীদের হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগও তোলা হয়।

এনসিপির কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাবিল ইউসুফ, সিনিয়র সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মাহিন, ছাত্রশক্তির গাজীপুর মহানগর সংগঠক সামিউল আলম নাবিল, জেলা সংগঠক বশির আহমেদ অপু, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান তন্ময় এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আফরিনা শেখসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকৈর টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এবং রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

সিফাতের গ্রেপ্তারের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারসংশ্লিষ্টদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ সামনে এলেও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো মামলাটিই ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে তাকে কোন অভিযোগে আটক করা হয়েছিল এবং কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।