বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এর ছোট ভাই আবদুল আলিম (৫৬) গতকাল রোববার বিকাল ৪টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আজ ১৮ মে (সোমবার) সকাল ৮ ঘটিকায় ভাঙাপুস্কুরুনি মহিলা আলিম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগরী নায়েবে আমীর মাস্টার মোসলেহ উদ্দিন, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, লালমাই উপজেলা আমীর আব্দুন নুর, সেক্রেটারি ইমাম হোসাইন, শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল হাকিম, শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নূরের জামান খোকন ও এমদাদুল হক শাহী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক আলাউদ্দিন আবীর, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন রনিসহ বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
জানাজার ইমামতি করেন মরহুমের বড় ভাই মাওলানা আবদুল হালিম। জানাজায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা এটিএম মা’ছুম মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি তার পক্ষ থেকে সালাম জানান এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের প্রারম্ভে মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, “মানুষের সঙ্গী দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদ এবং বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন। মানুষকে কবরস্থ করার পর এসব সম্পদ ও মানুষ সবাই ফিরে যায়। শুধু তার আমলই তার সঙ্গে থেকে যায়।
হাদিসে আমলকে দুই ভাগে বলা হয়েছে- ভালো আমল ও খারাপ আমল। যারা নেক আমল করে, কবরস্থ করার পর তাদের কাছে অত্যন্ত সুন্দর, আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল চেহারার একজন ফেরেশতা আসে। সে তাকে বলে, তোমার জন্য সুসংবাদ, তোমার আগামীর জীবন শুভ ও সুন্দর হোক।” তখন কবরবাসী জিজ্ঞেস করে, “আপনি কে? আমি তো আপনাকে চিনি না।” তখন সে বলে, “আমি তোমার সেই নেক আমল, যা তুমি দুনিয়ায় করে এসেছ।
অন্যদিকে, যারা দুনিয়ায় খারাপ আমল করে, তাদের সামনে অত্যন্ত ভয়ংকর, কুৎসিত ও বিকৃত চেহারার একজন উপস্থিত হয়। তাকে দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থা হয়। সে বিভিন্নভাবে তাকে তিরস্কার করে এবং বলে, “তুমি এমন এক জীবন নিয়ে এসেছ, যা তোমাকে সামনে আরও কঠিন অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে।” তখন সে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কে? আমি তো তোমাকে চিনি না।” তখন সে বলে, “আমি তোমার সেই খারাপ আমল, যা তুমি দুনিয়ায় করে এসেছ।”
এই অবস্থার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, “কবর কারও জন্য জান্নাতের বাগান হবে, আবার কারও জন্য জাহান্নামের টুকরো হবে।”
আমরা যারা জীবিত আছি, আমাদের উচিত নিজেদের ও আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে তারা ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে এবং আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের জন্য দোয়া করার উপযুক্ত হয়। তাই জীবিত অবস্থায় আমাদের সবারই সে চেষ্টা করা দরকার।