ব্রিটিশ রাজার রাষ্ট্রীয় সফরের তৃতীয় দিনে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি রাজা চার্লসকে মূল্যবান কোহিনূর হীরা “ফেরত” দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ১৮০০-এর দশকে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে নিয়ে গিয়েছিল।

৯/১১ স্মারক অনুষ্ঠানে চার্লস ও রানী ক্যামিলার সঙ্গে দেখা করার আগে মামদানিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সুযোগ পেলে তিনি রাজার সঙ্গে কী আলোচনা করবেন। বামপন্থী এই মেয়র বলেন, “যদি আমি রাজার সঙ্গে কথা বলি, তবে এর বাইরে আমি সম্ভবত তাঁকে কোহিনূর হীরাটি ফিরিয়ে দিতে উৎসাহিত করব।” তবে তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের সম্মান জানানো।

এটা স্পষ্ট নয় যে, মামদানি তাঁর কথা রেখেছিলেন কিনা এবং দুজনের সাক্ষাতের সময় চার্লসের কাছে এই বিতর্কিত বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন কিনা।

হাত মেলানোর পর রাজাকে মামদানির সঙ্গে হাসতে এবং সংক্ষিপ্ত আলাপ করতে দেখা যায়।

টাওয়ার অফ লন্ডনে রক্ষিত ১০৬ ক্যারেটের এই বিশাল পাথরটি ব্রিটেনের রাজমুকুটের রত্নরাজির মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং এটি রানী এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদারের মুকুটকে অলঙ্কৃত করে।

শতাব্দী ধরে এই রত্নটির মালিকানা নিয়ে বিবাদ চলে আসছে। এটি মুঘল সম্রাট, ইরানি শাহ এবং শিখ মহারাজাদের হাত ঘুরে অবশেষে ১৮৪৯ সালে পাঞ্জাব রাজ্য একটি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে রানী ভিক্টোরিয়াকে এটি প্রদান করে।

ভারত বারবার এই অমূল্য রত্নটি ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

যদিও এটি যে ভারতেই খনন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এরপরের ইতিহাসটি কল্পকাহিনী ও বাস্তবতার এক মিশ্রণ, যেখানে আফগানিস্তান, ইরান এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশও এই রত্নটির ওপর নিজেদের দাবি জানিয়েছে।

অভিবাসন-বিরোধী ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের একজন রাজনীতিবিদ দ্রুত এই মন্তব্যকে “আমাদের রাজার প্রতি অপমান” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দলটির স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ একটি এক্স পোস্টে বলেন, “এই সুন্দর হীরাটি বর্তমানে টাওয়ার অফ লন্ডনে প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানেই এটি থাকবে।”

সূত্র: ডন