লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের আকস্মিক নৌ অবরোধ ঘোষণার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছিল। তবে হুথিদের নতুন অবরোধের ফলে এই বিকল্প পথটিও এখন অকার্যকর হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে সৌদির তেল রপ্তানি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল স্টিফেন্স বলেছেন, সামরিক হামলা চালিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সহজ হবে না।
স্টিফেন্স বলেছেন, যদি বোমা হামলা চালিয়ে প্রণালিটি সহজে খুলে দেওয়া যেত, তাহলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থাও থাকত না। বাব আল-মান্দেব এখন আরও বেশি অনিরাপদ।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর হলে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন থেকে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ অবস্থায় সৌদি তেলের ওপর নির্ভরশীল পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টিফেন্স সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারে দেখতে চান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের পর অনেক দেশ তাদের কৌশলগত তেল মজুদের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে নতুন করে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।