* শর্ত সাপেক্ষে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি
* পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় আলোচনা চলমান
* ফোনালাপে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
* সৌদিতে পাকিস্তানের সেনা-যুদ্ধবিমান মোতায়েন
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।ইরানি আলোচকদের একটি কাছের সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থাটি বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা। বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো ঘোষণা না দিয়েই তিনি দেশটির রাজধানী তেহরানে যান। গতকাল সোমবার তৃতীয়দিনের মতো তার সফরের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে জানা গেলো, ইরান মার্কিনিদের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তাসনিম নিউজ, রয়টার্স, এপি, ডন, আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরাইল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান : ইরান
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলমান আছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, সম্প্রতি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের মন্তব্য পাঠিয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরানের প্রধান দাবি হলো ইরানের জব্দকৃত অর্থ (ফ্রোজেন ফান্ড) মুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে, আমরাও আমাদের মতামত দিয়েছি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরো বলেন, ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক উপাদান নিয়ে যে ‘ধারণা’ দিয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে ইরান মনে করে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের প্রস্তাব ফাঁস
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের সংশোধিত প্রস্তাবটি ফাঁস হয়েছে। যা সংগ্রহ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। গতকাল সোমবার তারা কয়েকটি প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রস্তাবে দেখা গেছে ইরান শর্তসাপেক্ষে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম তাদের কাছে নিয়ে আসা হবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র নয়, রাশিয়ার কাছে পাঠানো হবে। কিন্তু এতে থাকবে শর্ত।
এছাড়া ইরান প্রস্তাব দিয়েছে তারা লম্বা একটি সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান আরও বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেবে না। এর বদলে অর্থনৈতিক ছাড় চায়।
ইরানি আলোচকদের একটি কাছের সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা।
বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো ঘোষণা দিয়েই তিনি দেশটির রাজধানী তেহরানে যান। তৃতীয়দিনের মতো তার সফরের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরমধ্যে জানা গেলো, ইরান মার্কিনিদের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের ইরানে হামলার সম্ভাবনা
২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি এই আশঙ্কা করেছেন।
এলমাসরি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে নানা পক্ষের চাপের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থী নীতিনির্ধারকেরা ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
তার ভাষায়, ‘ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে যে ধরনের আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন, তা তিনি পাননি। একই সঙ্গে তিনি ভেবেছিলেন আলোচনা ভিন্নভাবে এগোবে।’
তিনি আরও বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়েও ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রসর হয়নি।
এলমাসরির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক- উভয় দিক থেকেই এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের চাপ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’
তবে তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সহজে পিছু হটবেন না বলেই মনে করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, ‘ট্রাম্প এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে তিনি মার্কিন জনগণের সামনে কোনও সুস্পষ্ট বিজয় ঘোষণা ছাড়া ফিরে যেতে চাইবেন না।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে বাড়ছে ইরান যুদ্ধের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার অনুষ্ঠিত এই আলাপে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনও শান্তি চুক্তি না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুই নেতা নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে কথা বললেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফোনালাপে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পরপরই নেতানিয়াহু জেরুসালেমে তার কার্যালয়ে শীর্ষ সহযোগী ও মন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এই ধরনের বৈঠকে সাধারণত পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং শাস চেয়ারম্যান আরিয়েহ ডেরি উপস্থিত থাকেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার আগে নেতানিয়াহু তার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছিলেন, ইরানের বিষয়ে আমাদের চোখ খোলা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই তার চীন সফরের অভিজ্ঞতা শুনব, হয়তো অন্য কিছুও। নিশ্চিতভাবেই অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
ইরান যুদ্ধের সময় সৌদিতে কয়েক হাজার সেনা-যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে পাকিস্তান
সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক ডজনের বেশি যুদ্ধবিমান ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যখন ইরানের যুদ্ধ চলছিল তখন সেনা ও বিমান মোতায়েন করে ইসলামাবাদ। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা। তারা বলেছে, যদিও পাকিস্তান যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। তা সত্ত্বেও সৌদিতে ওই সময় নিজেদের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধ করার সক্ষম পাকিস্তানের এসব সেনাদের মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো— সৌদি যদি পরবর্তী আরও কোনো হামলার শিকার হয় তাহলে পাকিস্তানি সেনারা সৌদির সেনাদের সহায়তা করবেন।
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এ চুক্তিতে রয়েছে যদি সৌদি বা পাকিস্তান অন্য কোনো দেশের আক্রমণের শিকার হয় তাহলে দুই দেশই অপর দেশকে সাহায্যে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান-সৌদির মধ্যে হওয়া চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ চুক্তির পর বলেছিলেন, এখন থেকে সৌদি ইসলামাবাদের পারমাণবিক শক্তির আওতায় চলে এসেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সৌদিতে ১৭টি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগই জেএফ-১৭ ফাইটার জেট। এসব বিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন করেছে পাকিস্তান। বিমানগুলো এপ্রিলের শুরুর দিকে পাঠানো হয়। তখনও ইরান যুদ্ধ চলছিল। এগুলোর সঙ্গে দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও পাঠানো হয়েছে।বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি সূত্রের সবাই বলেছেন, পাকিস্তা ৮ হাজার সেনার সঙ্গে প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি সৌদিকে দিয়েছে। এসবের সঙ্গে চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সৌদিতে নিয়েছে তারা।এসব যুদ্ধাস্ত্র চালাচ্ছে পাকিস্তানি সেনারা। কিন্তু এগুলোর খরচ বহন করছে সৌদি আরব।
এদিকে নতুন করে এসব সেনা যাওয়ার আগেই সৌদিতে পাকিস্তানের আরও কয়েক হাজার সৈন্য ছিল। দুটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছেন, পাকিস্তান থেকে নতুন যেসব সেনা এসেছে তারা পরামর্শ ও ট্রেনিং দেওয়ার কাজগুলো করবেন।