বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীন আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর নজিরবিহীন এক ‘একতরফা শূন্য শুল্ক নীতি’ কার্যকর করেছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে কার্যকর হওয়া এই সুবিধার আওতায় মহাদেশটির ৫৩টি দেশ চীনের বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।

২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে বেইজিং। আফ্রিকার প্রায় সব দেশ এই সুবিধার আওতায় এলেও ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছে ‘এসওয়াতিনি’। কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির তাইওয়ানের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক।

বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এসওয়াতিনি এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

চীনের দাবি, বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তারাই প্রথম কোনো মহাদেশের জন্য একতরফাভাবে এমন শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে আফ্রিকার কৃষি খাতে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কফি, বাদাম এবং অ্যাভোকাডোর মতো পণ্যের চাহিদা চীনের বাজারে বৃদ্ধি পাবে।

তবে বাস্তব চিত্র বলছে, চীন ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যের ভারসাম্য এখনও চীনের অনুকূলে। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ বিলিয়ন ডলারে।

আফ্রিকা মূলত কাঁচামাল রপ্তানি করে এবং বিনিময়ে চীন থেকে তৈরি পণ্য আমদানি করে, যা এই কাঠামোগত ঘাটতিকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল শুল্ক কমানোই বাণিজ্যের চিত্র বদলাতে যথেষ্ট নয়।

অধিকাংশ আফ্রিকান দেশের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা এখনও বেশ কম। উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধার পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা বা মরক্কোর মতো উন্নত দেশগুলো লাভবান হলেও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রভাব থাকবে সীমিত।

চীনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল যখন আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি নিয়ে অস্থিরতা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।

যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত সেই শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে এবং তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ‘শূন্য শুল্ক নীতি’ আফ্রিকায় বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।