ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত শি-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলন কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। আজ ১৫ মে ২০২৬, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে কোনো বড় ধরনের ব্রেকথ্রু বা ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়েই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, তা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম মতভেদ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে অটল রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই যুদ্ধকে মার্কিন একপাক্ষিক নীতির ফল হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।
সম্মেলন সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের কঠোর শর্তারোপ করেছে, যা চীন মানতে নারাজ। বেইজিংয়ের মতে, ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে। আলোচনায় কোনো যৌথ ঘোষণা বা শান্তি চুক্তির রূপরেখা তৈরি করতে না পারা দুই দেশের মধ্যকার গভীর কূটনৈতিক দূরত্বেরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরাশক্তিগুলোর এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শি-ট্রাম্প সম্মেলন কোনো ইতিবাচক ফল দিতে না পারায় বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক স্থবিরতা নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী কোনো বিকল্প পদক্ষেপের দিকে, যা এই অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে পারে।