দেশে জাতীয় নির্বাচনের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর থেকেই এ নির্বাচনের দাবি জোরদার হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে তেমন একটা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছিল না। গত মাসের শেষে এসে কিছুটা তথ্য মিলছে কমিশনের কাছ থেকে। জানা যাচ্ছে এ মাসেই শিডিউল ঘোষণা হবে।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতটা আলোচনা, উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তার ধরনটা একটু ভিন্ন। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে এ নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যদিও বিরোধী দলগুলো এর প্রতিবাদ করেছে। তবে ২০২৪ এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সে সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। জনদাবির প্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন সে দলীয় প্রতীক ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে। গত মে মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। অর্থাৎ দলের একক প্রার্থী থাকবে না। দাবি উঠেছিল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করার। কিন্তু কোন কোন দল তাতে আপত্তি করায় তা করা যায়নি। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি দেশের স্থানীয় সরকার প্রশাসনে এক ধরণের স্থবিরতা তৈরি করেছে। আর এ কারণেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর সবার।
বাংলাদেশের সংবিধানেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার নীতির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা কোনো রাজনৈতিক দলের বিশেষ দাবি নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোরই অংশ।
একজন সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে জাতীয় সরকারের চেয়ে স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রভাব অনেক বেশি। রাস্তা, ড্রেন, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্মনিবন্ধন, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে শুরু করে নাগরিক সেবার বড় একটি অংশের সঙ্গে স্থানীয় সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের সংবিধান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এ বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রের প্রশাসন যেমন জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাবে, তেমনি গণতন্ত্রও শিকড় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যেও এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, দলীয় প্রভাব, স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, নির্বাচনী সহিংসতা, অর্থের ব্যবহার এবং প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সরকারকে দুর্বল করেছে। ফলে শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন এবং নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করার নিশ্চয়তা।
২৭ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিইসি এসব কথা বলেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ৩১ আগস্ট হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশে এখন মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। হালনাগাদে এবার ভোটার বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে তা জানা যায়নি, তিনি জানাতে পারেননি। যাই হোক এ মাসেই তফসিল ঘোষণা করা হলে তা স্পষ্ট হবে। জানা যাচ্ছে এ বিষয়ে ইসি দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে।
গণতন্ত্র কেবল জাতীয় সংসদে সীমাবদ্ধ থাকলে তা পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র হয়ে ওঠে না। একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলেন—কিন্তু তার এলাকার রাস্তা ভাঙা, জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা, খেলার মাঠের সংকট কিংবা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি তার কোনো কার্যকর অংশগ্রহণ না থাকে, তাহলে গণতন্ত্রের সুফল সীমিতই থেকে যায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণকে সরাসরি নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। একজন চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর বা সদস্যকে নির্বাচিত করার সময় ভোটার সাধারণত প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় সমস্যার বিষয়ে তার অবস্থান বিবেচনা করতে পারেন। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারের দূরত্বও কম। ফলে স্থানীয় নির্বাচন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্থানীয় রাজনীতি ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা থেকে উঠে আসে। বাংলাদেশেও এ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি কেবল দলীয় প্রভাব বিস্তার কিংবা অর্থ ও পেশীশক্তির প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তাহলে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে জনগণের সামনে প্রকৃত বিকল্প তৈরি করা। ভোটার যাতে স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেটিই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ হতে হবে সমান ও নিরাপদ।
প্রার্থীদের প্রচারে সমান সুযোগ, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, নির্বাচনী আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচনসংক্রান্ত পৃথক আইন ও বিধিমালা রয়েছে। কিন্তু আইন থাকা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ—দুটি এক বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে যে, নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করলে প্রার্থী যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে আচরণবিধি কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয় একটি বাস্তবতা। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন স্বাভাবিক, স্থানীয় পর্যায়েও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব থাকবে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা।
একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা। কিন্তু যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়, তখন স্থানীয় সমস্যাগুলো আড়ালে চলে যায়। প্রার্থীর যোগ্যতার বদলে দলীয় পরিচয়, অর্থবল কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব বড় হয়ে ওঠে।
তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রার্থীর স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, সততা, দক্ষতা ও সেবার মানসিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে জনগণকে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে ‘কে কোন দলের’ পাশাপাশি ‘কে এলাকার জন্য কী করতে পারবেন’—এই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবহার একটি বড় সমস্যা। নির্বাচনী প্রচারে অতিরিক্ত ব্যয়, ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, পেশীশক্তির ব্যবহার কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ স্থানীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে শুধু নির্বাচনের দিন নয়, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কঠোর নজরদারি করতে হবে। প্রার্থীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, প্রচার ব্যয়, পোস্টার-ব্যানার, সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভোটার যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ের প্রশাসন যদি কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত দেখায়, তাহলে নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনার সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও জবাবদিহি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনে যেহেতু প্রার্থীরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, তাই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সামান্য সন্দেহও বড় ধরনের অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এই নির্বাচনেও সেনাবাহিনী নামানো যেতে পারে যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের দাবি সামনে এনেছে। জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে নেওয়া হলে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। অতীতে স্থানীয় নির্বাচন অনেক সময় জাতীয় রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। দলীয় আনুগত্য প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও অর্থ, পেশীশক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাব নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। এখন প্রয়োজন ভিন্ন সংস্কৃতি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার লড়াইয়ের সম্প্রসারিত মঞ্চ না বানিয়ে স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
একজন প্রার্থী কেন চেয়ারম্যান বা মেয়র হতে চান—এ প্রশ্নের উত্তর হওয়া উচিত এলাকার মানুষের সেবা করা। শুধু দলীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে কেউ জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য হয়ে যাবেন—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের জন্য বিপজ্জনক। গণতন্ত্রের শক্তি কেবল সংসদ ভবনে নয়; এর প্রকৃত শক্তি মানুষের ঘরে, মহল্লায়, ইউনিয়নে ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচনই পারে জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব কমাতে এবং গণতন্ত্রের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত করতে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।