ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খিলগাঁও থানা আওতাধীন সিপাহীবাগ আজও যেন এক অচেনা গ্রামাঞ্চল। রাজধানীর ভেতর হয়েও এখানকার রাস্তাঘাটের করুণ দশা নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগ তৈরি করছে। বছরের পর বছর খোঁড়াখুঁড়ি শেষে রাস্তা ফেলে রাখা, ভাঙা ফুটপাত, ড্রেনের পাশে জমে থাকা আবর্জনা সব মিলিয়ে এলাকাটি বিশৃঙ্খলা ও ঝুঁকির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকেও শেষ হয়না সংস্কার কাজ। প্রতিদিন হাজারো অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে রামপুরা, শাহজাহানপুর, গোড়ান ও মেরাদিয়ায় যেতে হলে বাধ্য হয়ে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি নামলেই সিপাহীবাগে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা; কোথাও কোথাও খোলা গর্তে রিকশা উল্টে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ এ পথ দিয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলাফেরা করছেন। তাও হাঁটার জায়গা নেই।
পরিস্থিতির জন্য দায়ী কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় ! বরং বছরের পর বছর চলে আসা পরিকল্পনার ঘাটতি, ঠিকাদারি অনিয়ম, বাজেটের অপচয় এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা। রাজধানীর কেন্দ্রে থেকেও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হওয়া নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। অথচ বিকল্প কোনো রুট না থাকায় মানুষকে বাধ্য হয়ে ভাঙা, কাদা ও দুর্গন্ধময় রাস্তায় পা ফেলতে হচ্ছে। জনগণের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এ স্বল্প জায়গার মধ্যে অটোরিকশা গাড়ি এমনকি লেগুনা চলাচল করে যার ফলে দীর্ঘ যানজট লাগে। অপচয় হয় কর্মঘণ্টা।
এখন জরুরি ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক রাস্তার মূল্যায়ন করে নির্দিষ্ট সময়সীমায় টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ময়লা অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের কঠোর নজরদারি এবং প্রতিটি উন্নয়নকাজে অনিয়ম রোধ করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন ও রাজউক কে জানানো হলো প্রয়োজনীয় কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
খিলগাঁও কেবল আবাসিক নয়; এটি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। তাই এখানকার অবকাঠামো উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি নয়, বরং সরকারের দায়িত্ব। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ময়লা ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনের তদারকি বাড়ানো উচিত। রাস্তার উন্নয়নকাজ যেন পরিকল্পিতভাবে এবং জনগণের চলাচল বাধাগ্রস্ত না করে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি স্থানীয় সরকার জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আন্তরিক হয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়বে, আর প্রশাসনের প্রতি আস্থা ধসে পড়বে।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন, শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি।