জাতীয় দলের তারকা শুটার কামরুন নাহার কলির ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। তবে এই ফেরাটা মোটেও নিষ্কণ্টক নয়, বরং তাকে ফিরতে হচ্ছে একগাদা কঠিন শর্ত মেনে। ফেডারেশনের দেয়া এসব কড়া নিয়মের প্রতি লিখিত মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা জমা দিলেই কেবল পুনরায় শুটিং ক্যাম্পে প্রবেশের সুযোগ পাবেন তিনি। জানা গেছে বুধবার শুটিং ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের জরুরি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তার প্রেক্ষিতেই গতকাল বৃহস্পতিবার কলিকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের চিঠি দেয়া হয়েছে। শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসের সই করা সেই চিঠিতে কলির জন্য সবচেয়ে বড় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফেডারেশনের পূর্বানুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে কোনোভাবেই মুখ খুলতে পারবেন না এই শুটার। এমনকি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও ফেডারেশনের কোনো সিদ্ধান্ত, সতীর্থ খেলোয়াড় কিংবা কোচদের নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য বা পোস্ট দেয়া থেকে তাকে পুরোপুরি বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পের সার্বিক শৃঙ্খলা এবং কোচের আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উঠলেও আপাতত আগামী তিন মাস কলিকে কঠোর নজরদারিতে বা 'অবজারভেশন' এ রাখা হবে। এই তিন মাসের মধ্যে তার আচরণে সামান্যতম নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে কোনো ধরনের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। চিঠিতে আরও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, তিন মাসের এই পর্যবেক্ষণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি তিনি উল্লেখিত শর্তগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেন, তাহলেও তাৎক্ষণিকভাবে একই ধরনের কঠোর শাস্তি নেমে আসবে তার ওপর। সব মিলিয়ে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও কামরুন নাহার কলিকে এখন থেকে পা ফেলতে হবে অত্যন্ত মেপে মেপে। উল্লেখ্য ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ মিডিয়ায় প্রকাশের পরই শাস্তি পেয়েছেন কলি। যা নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠিও দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত কমিটি করে। সেই কমিটি সাজ্জাদের দোষ খুঁজে পেয়ে শুটিং থেকে নিষিদ্ধের সুপারিশ করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে শুটিং ফেডারেশনের পদ থেকে সরিয়েও দেয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দেশের শীর্ষ এই নারী শুটার। তারপর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কলির শাস্তি প্রত্যাহারের বিষয়টি পুন:বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছিলেন।
খেলা
নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলেও ‘শর্তের বেড়াজালে’ শুটার কলি
জাতীয় দলের তারকা শুটার কামরুন নাহার কলির ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন।
Printed Edition