মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে গেলো প্রাইম ব্যাংক। ৩০৩ রান করার পর মোহামেডানের ভক্ত-সমর্থকরা ধরে নিয়েছিল টানা পঞ্চম জয় পেতে যাচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। যে কোনো সময় পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন যে কেউ। সে কাজটা করলেন প্রাইম ব্যাংকের ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু। ১২৩ বলে ১১৮ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে টপকে গেলেন মোহামেডানের ৩০৩ রানকে। ফলে ৩ উইকেটে জয় পায় প্রাইম ব্যাংক। সিলেটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, নাহয় গতকাল দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের দৃষ্টি থাকত বসুন্ধরা কমপ্লেক্সে। যেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই অপরাজিত ও পয়েন্ট তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে থাকা মোহামেডান ও প্রাইম ব্যাংক। তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে মোহামেডানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পৌঁছে গেছে প্রাইম ব্যাংক।
ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপুর অনবদ্য শতরান ছাড়াও আরিফুল ইসলাম (২৯ বলে ৩১), অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৫১ বলে ৩৬) ও অধিনায়ক আকবর আলীর (৩০ বলে ৪০) দৃঢ়তায় জয়ের পথ খুঁজে পায় প্রাইম ব্যাংক। তবে দিপু সেঞ্চুরি করলেও প্রাইম ব্যাংক দারুণ জয় পেয়েছে শামীম পাটোয়ারির দুর্দান্ত ফিনিশিং টাচে। শেষ দিকে মাত্র ২১ বলে ৩ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে ৩৭ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়ে প্রাইম ব্যাংককে এক স্মরণীয় জয় এনে দেন শামীম পাটোয়ারী। প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটারদের ব্যাটের তোপে ভেসে গেছেন মোহামেডানের দুই বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (১০ ওভারে ২/৭২) ও রিশাদ হোসেন (১০ ওভারে ০/৮৪)। শেষ দিকে প্রাইম ব্যাংক ব্যাটারদের কাছে চরম মার খেয়েছেন রিশাদ। মোহামেডানের পক্ষে পেসার সাইফউদ্দীনই প্রাণপণ চেষ্টা করে (৪/৫০) খেলাকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যান। এছাড়া বাকি বোলাররাও সুবিধা করতে পারেননি। এর আগে বাঁ-হাতি নাইম শেখ (৯৯), পারভেজ ইমন (৫২) ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর (৪৯*) ব্যাটে ভর করে মোহামেডান ৩০৩ রানের বড় স্কোর দাঁড় করায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি কম বলে প্রমাণ করেন প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটাররা।