পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব এবং সিলেটের উইকেট নিয়ে কথা বলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। মুশফিক মনে করেন, বর্তমান বাংলাদেশ দল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং ইউনিট পেয়েছে। নিজের অধিনায়কত্বের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘টেস্টে আগে আমাদের বোলিং সাইটটা আগের চাইতে বেশি ভারসম্যপূর্ণ। এটা অধিনায়কের জন্যও স্বস্তির। এখন আমাদের ২০ উইকেট নেয়ার সক্ষমতা আছে। সে হিসেবে শান্ত খুবই ভাগ্যবান। আমার সময় হয়তো দুয়েকজন বোলার ছিলো। এখন সময়টা অন্যরকম।’ বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক শান্তর ব্যাটিং ও নেতৃত্ব নিয়েও সন্তুষ্ট মুশফিক। তার ভাষায়, ‘শান্ত ভালো ব্যাটিং করছে। ওর কাছে যত বড় দায়িত্বই আসে সে ওই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করে। শান্ত দুর্দান্ত অধিনায়ক। দ্বিতীয় টেস্টে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে আশাবাদী তিনি। মুশফিক বলেন, ‘সিলেটে বরাবরই ভালো ব্যাটিং উইকেট থাকে।

ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে গতবছর অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এরপর ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছিল অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের চাওয়ায় আবারও ওয়ানডে দলে ফিরতে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। তবে এ নিয়ে এতদিন কোনো কথা বলেননি মুশফিক। গতকাল তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ওয়ানডে দলে আবারও ফেরা সম্পর্কে। জবাবে মুশফিক বলেন, ‘ওয়ানডে আর ফেরার পরিকল্পনা নেই, যদিও অফার এসেছিলো। তবে আমার মনে হয়, আমাদের ওয়ানডে দলটা এখন খুবই ব্যালেন্সড।’ পরে এক ফরম্যাটে খেলা দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘মুমিনুল-তাইজুলকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি গত দুই বছর ধরে শুধু টেস্ট ফরম্যাটে খেলছি। আমি তাদের পেইনটা বুঝতে পারি। যখন তাদের হাসি দেখি, অন্যরকম ভালো লাগে।’ এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বেশ ভালো অবস্থানে থেকে শেষ করতে চান মুশফিক। একইসঙ্গে ঘরের মাঠে জয় নিয়ে আশাবাদী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, ‘টেস্ট সাইকেল গেলোবারের চাইতে ভলো অবস্থানে শেষ করতে চাই। টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘যতদিন ফিট থাকব, ততদিন খেলে যেতে চাই। এই বিষয়ে কোনো কমপ্রোমাইজ করব না। আমি অবসরের আগে দলকে এমন একটা টোন সেট করে যেতে চাই, যাতে সবাই অন্তত নিজের ফিটনেসের ব্যপারে আরও সজাগ হয়।’

আগামী মাসে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। এরপর আগস্টে অজিদের মাটিতে রয়েছে দুটি টেস্ট ম্যাচও। যা বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন মুশফিক, ‘অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। এত বছর যেহেতু তারা আমাদের ডাকে নাই, ওদের কন্ডিশন নিয়ে আমাদের পেসাররা খুবই রোমাঞ্চিত। আমার বিশ্বাস, তারা ওদের খুবই টাফ টাইম দেবে।’ এদিকে কম্বিনেশনের কারণে বাংলাদেশের টেস্ট একাদশে আবার কখনও দলেই জায়গা হচ্ছে না নাইম হাসানের। মুশফিক এ নিয়ে বললেন, ‘নাইম হাসান অনেক দিন ধরে দলের সঙ্গে। কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এটা তার জন্য খুবই টাফ। তবে সে মানসিকভাবে অনেক শক্ত। তাকে সবসময়ই প্রস্তুত থাকতে হবে। সে প্রতিদিনই উন্নতি করছে। আশা করছি সে সুযোগ পাবে।’

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। গত আসরে দেশের বাইরে কিছুটা ভালো করলেও ঘরের মাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে নতুন চক্রে সেই অতীত ভুলে ধাপে ধাপে উন্নতির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিন ম্যাচে এক জয় এবংএক ড্র নিয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আপতত ছোট ছোট পরিল্পনায় এগিয়ে যাওয়ার কথা জানালেন মুশফিক। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে বড় স্বপ্ন না দেখে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা জানালেন মুশফিক, ‘না অবভিয়াসলি আমাদের ইচ্ছা ছিল যে গতবার যেটা আমরা অ্যাচিভ করেছি যেটা বললেন সেটা যেন মেক শিওর আমরা ওটা রাখতে পারি এটা অবশ্যই অনেক বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট হবে। বাট তার আগে ছোট ছোট করে আমরা গোল সেট করেছি যেন হোমে আমাদের ম্যাক্সিমাম যে কয়টা খেলা আছে আমরা যেন মেক শিওর এখান থেকে সর্বোচ্চ পয়েন্টগুলো নিতে পারি।’

গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কা সিরিজে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। একটি টেস্ট ড্র করেছিল। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে জয় দিয়ে শুরু করেছে। এই মুহুর্তে টেস্ট চক্রে বাংলাদেশ নিজেদের আগের অবস্থান থেকে এগিয়ে গেছে। সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে গত চক্রে, সাত নম্বরে থাকা। সিলেটে আজ শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এই টেস্টের পর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুটি টেস্ট খেলবে। মুশফিকের মতে দেশের বাইরের সফরগুলো কঠিন হবে, ‘আর অন্যান্য যেটা আউটসাইড আমাদের খেলা স্বাভাবিক আপনারা জানেন দুটা আমাদের ট্যুর আছে বাইরে বাট ইটস নট দ্যাট ইজি। এবং ওখানে আমরা এর আগে কখনো খেলিনি আমার ক্যারিয়ারে তো কখনো খেলা হয়নি।’ তবে বর্তমান দলের বোলিং আক্রমণ এবং সামগ্রিক ভারসাম্য নিয়ে আশাবাদী মুশফিক, ‘ইটস নট দ্যাট ইজি বাট যেটা আমি বললাম যে আমাদের টেস্ট টিমের এখন বোলিং ডিপার্টমেন্ট স্পেশালি এমন ভারসাম্য আছে যেটা কিনা আমরা যদি ইনশাল্লাহ ভালো একটা কনসিস্টেন্ট রান আমরা বোর্ডে দিতে পারি দেন উইদাউট এনি ডাউট আমরা যেকোনো অপোজিশন কে আমরা চ্যালেঞ্জ দিতে প্রস্তুত।’­