বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামছে দলটি। ওয়ানডে সিরিজ হারের ব্যথা না ভুলতেই এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড দল। তার আগে গতকাল চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সেখানে জানিয়েছেন রোমাঞ্চকর সিরিজের কথা। ল্যাথাম বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা ফুটেজ থেকে আমরা দ্রুততম সময়ে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। তবে মাঝমাঠে গিয়ে একে অপরের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করাটাও খুব জরুরি। আমি মনে করি, এটি দুই দলের জন্যই রোমাঞ্চকর হবে। আমাদের দলেও এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা খুব বেশি খেলেনি, তেমনি বাংলাদেশ দলেও এমন খেলোয়াড় আছে- যাদের এখনও অভিষেক হয়নি। তাই সামনের সিরিজটি বেশ রোমাঞ্চকর হবে। আমরা খেলোয়াড়দের কিছু ফুটেজ দেখেছি। আমরা জানি এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের এই ফরম্যাটে এখনও অভিষেক হয়নি। যখন আপনার কাছে এমন খেলোয়াড়দের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য থাকে না, যাদের আপনি আগে দেখেননি। তখন আপনাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়।’ কিউইরা এই সিরিজ ভালো করতে মুখিয়ে রয়েছে জানিয়ে ল্যাথাম বলেন, ‘আমাদের অনেকে এখন বিশ্বজুড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। সবাই টি-টোয়েন্টি পছন্দ করে। এই ফরম্যাটে বেশ অভিজ্ঞ তারা। এই সিরিজে ভালো করতেও ছেলেরা মুখিয়ে আছে। একজন ক্রিকেটারই এই ফরম্যাটে ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারে। ফরম্যাট যত বড়, ম্যাচ পরিবর্তন করতে তত বেশি সময় লাগে। কিন্তু এটা তো টি-টোয়েন্টি। কয়েক ওভার, কয়েক বলে খেলা ঘুরে যেতে পারে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উইনারদের খেলা।’ ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দলের একাধিক নিয়মিত সদস্যকে পাচ্ছে না কিউইরা। তারা ব্যস্ত আছেন আইপিএল ও পিএসএলে। এমতাবস্থায় ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিজ্ঞদের উপরই ভরসা রাখছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেই দলের মাত্র একজন, ইশ সোধি আছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আর অভিজ্ঞতার কথা বললে টম ল্যাথাম; যিনি কিনা টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিতও নন। শেষ ৩ বছরে নিজেই খেলেছেন মাত্র ৩ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। যদিও এগুলোকে সমস্যা মনে না করে দলে থাকা ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতাকে ভরসা করছেন ল্যাথাম। ল্যাথাম বলেন, ‘আমার মনে হয় (টি-টোয়েন্টি দলটাও) অনেকটা ওয়ানডের মতোই। আমাদের দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা হয়তো কম। তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা কম হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তারা যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেটি কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।’ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরেছেন ডিন ফক্সক্রফট। নিক কেলিও সিরিজ জুড়ে ছন্দে ছিলেন। এদের উপর আস্থা আছে ল্যাথামের, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা যে সুযোগ পেয়েছে, সেটি টি-টোয়েন্টিতে বয়ে আনতে পারলে দারুণ হবে। আমাদের দলের কয়েকজনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। যেখানে তারা অনেক ভালো ক্রিকেটারদের মোকাবিলা করেছে, নামি আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে খেলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছেলেদের আছে। সবাই এই ফরম্যাটে খেলতে ভালোবাসে। এটি খুবই গতিময়, বিনোদনে ভরপুর ও আনন্দের ফরম্যাট। হ্যাঁ, এই সিরিজটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’