আগামী বছরের ৩১ মার্চ আইসিসি র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দলগুলো। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় বড় কোনো অঘটন না ঘটলে দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ নম্বরের নিচে নামা কিংবা জিম্বাবুয়ের শীর্ষ আটে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে বাংলাদেশ নবম স্থান ধরে রাখতে পারলেও বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে, যা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে আরও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। টানা তিনটি সিরিজ জয়ে বদলে গেছে দলের সাম্প্রতিক চিত্র। আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে সম্ভাব্য ৬ পয়েন্টের মধ্যে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। যা র্যাংকিংয়ের তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। বর্তমানে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে নবম স্থানে। অন্যদিকে, দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭ ফলে দু’দলের ব্যবধানও এখন কিছুটা স্বস্তিদায়ক। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি এতটা অনুকূলে ছিল না। তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে চিত্র বদলে গেছে দ্রুতই। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়, এরপর পাকিস্তানকে হারিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং সর্বশেষ দুই নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে পরাজিত করা এই সাফল্যগুলোই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। তবে বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ র্যাংকিংয়ের তিন নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর রয়েছে শীর্ষ দল ভারতের সঙ্গে সিরিজ। দুটি সিরিজই দেশের মাটিতে হওয়ায় বাড়তি সুবিধা থাকবে বাংলাদেশের। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ম্যাচগুলোতে জিতলে বড় রেটিং পয়েন্ট পাওয়া যাবে, আর হারলেও পয়েন্ট কমার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ অধিনায়ক মিরাজ। তার মতে, শুধু বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করাই নয়, দলকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়াই এখন লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়েছেন ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলার ওপর। কারণ তার বিশ্বাস, পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শুধু শীর্ষ নয়, আরও ভালো অবস্থানে যাওয়াও সম্ভব। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক উন্নতি তাই কেবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বাড়ায়নি, বরং দলকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহসও জুগিয়েছে। শুধু কোনোরকমে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই নয়, বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজের দলকে নিকে চান আরও ওপরে। কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশের জন্য ছবিটা ছিল ঘোলাটে। সামনের পথটা ছিল বন্ধুর। তবে টানা তিনটি সিরিজ জয়ের পর চিত্র বদলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ জয়ের পর তাদের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনে মিরাজের দল। গত মাসে পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্যারিবিয়ানদের টপকে তারা জায়গা করে নেয় ৯ নম্বরে। ফলে নাটকীয় কিছু না ঘটলে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ নম্বরের নিচে নামার ও জিম্বাবুয়ের ৮ নম্বরের ওপরে ওঠার সুযোগ তেমন নেই বললেই চলে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ নম্বর জায়গা ধরে রাখলেও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। সব মিলিয়ে আপাতত বাংলাদেশ কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে আছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। অধিনায়ক মিরাজ অবশ্য তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চান না। বরং উন্নতির পথ ধরে এগিয়ে যেতে চান অধিনায়ক। মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলাটাও জরুরি। কারণ আমরা যদি ভালো ক্রিকেট না খেলতে পারি, তাহলে ওটা আমরা করতে পারব না। ফলাফল একটা ব্যাপার, তবে প্রক্রিয়া হলো আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলা। আমরা যদি পারফর্ম করতে পারি, একেকটি ম্যাচ জিতে এগিয়ে যেতে পারি এবং সবাই যদি আত্মবিশ্বাসী থাকে, তাহলে আমার মনে হয় ওটা অর্জন করা সম্ভব। শীর্ষ ৯ নম্বরের ভেতরে থাকাটা... আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারি, আমার মনে হয় ৯ নম্বর নয়, আমরা আরও অনেক ওপরে যেতে পারি। কাজেই সেটা আমাদের দলের জন্য বিরাট একটা সুবিধা থাকবে।’
ক্রিকেট
বিশ্বকাপের পথে কতটা এগিয়ে বাংলাদেশ
আগামী বছরের ৩১ মার্চ আইসিসি র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দলগুলো। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
Printed Edition