স্পোর্টস রিপোর্টার

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা বাংলাদেশ দলকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। হাতিরঝিলে বাফুফের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘোষণার ১৮ দিন পর গতকাল বুধবার সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে আর্থিক পুরস্কার। ২৩ সদস্যের স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়কে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে সবাই উপস্থিত থাকতে পারেননি। স্কোয়াডে থাকা তিনজন প্রবাসী ফুটবলারের চেক তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার কারণে চারজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকায় তাদের পুরস্কার গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অন্যদিকে কোচিং স্টাফদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে শুধু সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। দেশের ফুটবলের তৃণমূল উন্নয়নে ডিএনসিসি দীর্ঘদিন ধরে ‘পাইওনিয়ার লিগ’-এ অর্থায়ন করে আসছে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন মাঠ বাফুফের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। অনুষ্ঠানে মাঠ সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, সিটি কর্পোরেশন নতুন করে আরও ছয়টি মাঠ খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করছে। তবে শুধু উন্মুক্ত করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ সংস্কার ও উন্নয়নও জরুরি। মাঠ প্রস্তুত হলে সেখানে কোচ ও টেকনিক্যাল সহায়তা দেবে বাফুফে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটন জানান, মাঠগুলো উন্মুক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ফুটবল উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। পুরস্কার বিতরণ শেষে তিনি বলেন, এই অর্থ ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় দলে খেলার লক্ষ্য সামনে রেখে যেকোনো বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন মিলটন। তিনি তাবিথকে ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে বাফুফে সভাপতি দেশের ফুটবলের হারানো জনপ্রিয়তা ফেরাতে কাজ করছেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের পরবর্তী লক্ষ্য এশিয়ান বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়া। সেই লক্ষ্য পূরণে এই সহায়তা খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাফুফে সভাপতি।