হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা নিজের অধীনে বন্দী ছিলেন বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

গতকাল সোমবার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামীপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

জেরায় আযমীর উদ্দেশে দুলু বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কখনো দেখা হয়েছিল কি না।

জবাবে আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দি করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামী ১৩ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তাদের আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামীরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন দুলু।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

মানবতাবিরোধী মামলায় সাবেক এমপি গোলাপকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাদারীপুরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক এমপি আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি এ মামলায় মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করা হয়।

এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে সাবেক এই এমপিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে গোলাপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি।

এক সময় সচিব পদমর্যাদায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ছিলেন গোলাপ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।