দীর্ঘ ৮ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আয়নাঘরে বন্দী থাকা শহীদ মীর কাশেম আলীর পুত্র ব্যারিস্টার আহমদ বীন কাশেম (আরমান) পিতার কবর জিয়ারত করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করতে গিয়ে পিতা হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে ব্যারিস্টার আরমান ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে পিতার প্রতিষ্ঠিত মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে বিপুল সংখ্যক জামায়াত শিবির নেতা কর্মী নিয়ে পিতার কবর জিয়ারত করেন।

২০১৬ সালে যেদিন সাজানো আদালতে কথিত যুদ্ধাপরাধী মামলায় মানবতা বিরোধী অপরাধী সাজিয়ে মীর কাশেম আলী কে ফাঁসি দেওয়া হয় সেইরাতে জানাযায় অংশ নিতে না দিয়ে ব্যারিষ্টার আরমান কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে কোন দিন তারা দায় স্বীকার করেনি, গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা বা আটক করা হয়েছে কিনা তাও বলেনি, এমনকি বেচে আছে নাকি মারা গেছে তাও পরিবারকে জানায়নি।

অবশেষে গত জুলাই বিপ্লবের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে গুম ঘরের কর্তারাও পালিয়ে যাওয়ায় ব্যারিষ্টার আরমান মুক্তি পান। তিন গুমঘরে নানা রকম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে মুক্ত হয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিতে বিদেশে থাকার কারণে এতদিন পিতার করবের নিকট আসতে পারেননি।

শুক্রবার মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের পক্ষে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ জেলার প্রবেশ পথ সিঙ্গাইর হতে হরিরামপুর উপজেলার চালা পর্যন্ত শতশত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় পৌছানোর পথে আরমানকে এক নজর দেখতে রাস্তার উভয় পাশেই অগনিত মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা এবং ঢাকা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানিকগঞ্জ জেলা আমীর হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, জাতীয় অর্থোপেডিক হসপিটালের সিনিয়র ডাক্তার শাহীদুর রহমান খানসহ বিপুলসংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত করে শহীদ মীর কাশেম আলীর পুত্র ব্যারিষ্টার আহমদ বীন কাশেম (আরমান) পিতা হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, যেখানে আমাকে বন্দি রাখা হয়েছিল সেই অন্ধকার ঘরে কোন জানালা ছিল না। মুখ, চোখ বেঁধে হাত করা পড়িয়ে রাখা হতো, দিনরাত কোথায় আছি বলা হতো না, এমনকি নামাজের সময়টাও বলা হতো না। আমি বলতাম আমি বাবার নিয়োজিত আইনজীবী, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি জানিনা আমার বাবার কি হয়েছে। রায় কার্যকর হলে তার দাফনের জন্য পরিবারের সদস্য হিসেবে আমার থাকা দরকার। আমি বলতাম আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ সেটা আমাকে জানানো হোক। সেখানে আমাকে যে অত্যাচার করা হতো তার চাইতে মৃত্যুও ভালো। সেখানে (আয়না ঘরে) অনেক মানুষের নির্যাতনের আওয়াজ শুনেছি। আমাকে কোন অপরাধে আটকে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তারা বলতো আমরা নির্দেশ পালন করছি মাত্র। আমি এর বিচার চাই, দেশবাসীর কাছে সাহায্য চাই, তারা যে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তার বিচার যেন বাংলার মাটিতে হয়। সেই বিচার যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম ও বাংলাদেশের বিচার বিভাগের নাম যেন উজ্জ্বল হয় আল্লাহ সেই তৌফিক আমাদের দান করুন।