দেশে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের। গত বছর (২০২৫ সালে) ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। আর গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন।
শনিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রতিবেদনটি পাঠান। এতে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৬ হাজার ৩১৪টি বা ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি দুর্ঘটনা।
বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩ হাজার ৯১ জন।
২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়ী পণ্যবাহী যানবাহন। মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ৬ হাজার ৪৮১টির জন্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি দায়ী।
অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চালকের একক দায় রয়েছে ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনায়। এছাড়া বাস ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং
প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের বয়স বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি জানায়, মোট আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির ঘাটতি, সহজলভ্য গণপরিবহনের অভাব এবং অসহনীয় যানজটকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।