প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, দেশের মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শিগগিরই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি) আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট একটি সমন্বিত প্রকল্প। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

দেশের মেধাবী তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘ব্রেইন ড্রেন’ দেখতে চাই না। দেশের মেধাবী ছেলে-মেয়েরা যারা বিদেশে রয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় সম্পৃক্ত করতে চাই। তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএফটিবির ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।

জাতীয় রোবোটিক্স উৎসবকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রতিযোগিতায় লাইন ফলোয়িং রোবট, রোবো সকার, টেকাথন, প্রজেক্ট শোকেস ও বোট রেসিং-এই পাঁচটি বিভাগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬৬টি দলের সাড়ে পাঁচ শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা রোবোটিক্স, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নানা প্রকল্প ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন।

আয়োজকরা জানান, তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং রোবোটিক্স ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই ‘রোবোফিউশন ১.০’ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।