দ্রুত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে নগরের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় রাজধানীর বারিধারায় ঢাকা মহানগরী উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরতে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, গত ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় খাল পরিষ্কার, জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত উন্মুক্ত করার কাজ করা হয়।

তিনি বলেন, সাত দিনের কর্মসূচিতে ঢাকার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে—এমন দাবি তাঁরা করছেন না। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল হাতে-কলমে দেখানো যে, উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতা থাকলে নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করা সম্ভব।

সেলিম উদ্দিন বলেন, “একসময় যে খাল পানি নিয়ে যেতে প্রধান মাধ্যম ছিল, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফুটপাতে হাঁটার কথা, সেখানে দোকান বসেছে। সাত দিন কাজ করার পর একটি কথা না বলে পারছি না—এই শহরের সমস্যা জনবলের অভাবে নয়, দায়িত্ববোধের অভাব।”

কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সাত দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ২৯০টি খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ২০৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ হাজার ৮২৮ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

তিনি জানান, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০টি স্মার্ট বিন স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিনে তিন ধাপে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী স্বাক্ষরতা দিবসে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে কলম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহযোগিতা নিয়ে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা যেতে পারে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মানুষকে দুর্বল বানানোর দরকার নেই, কার্ড নয়—কাজ চাই।” দেশের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি সড়কবাতি সচল রাখা এবং নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল, অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানা এবং ঘরে বসে এর অবস্থা পর্যবেক্ষণের সুযোগ নাগরিকদের দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডের বাজেট, ব্যয় ও কর্মসূচির তথ্য নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা একটি স্মার্ট বিরোধী দল পেয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিন।”

পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে পারলে ঢাকাকে এমন একটি শহরে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা আসবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে নগরের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার ও নগর প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, দায়িত্বশীলতার খাতিরে যে কেউ চাইলে নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারেন। প্রশাসনের পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও কেন পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, “ময়লা নিয়েও ঢাকা শহরে সিন্ডিকেট হয়। সেই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।