যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ফের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-কাতিবা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার এক সংবাদদাতা। এলাকায় অন্তত ১০টি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার পর আহত ও হতাহতদের আল শিফা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের আমেরিকান হাসপাতালের আশপাশেও সংঘর্ষ ও হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে হাসপাতালটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার কয়েকটি এলাকায় ‘হুমকি দূর করার উদ্দেশ্যে’ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে দুটি যানবাহনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান হামলার কারণে আমেরিকান ফিল্ড হাসপাতালকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষায়, ঘটনাটি এখনো ‘চলমান’ এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট গাজা সিটিতে পৃথক দুটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

মধ্য গাজায় একটি হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জামের গুদামে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং উপত্যকার অন্যত্র পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। কাতার ট্রিবিউন

হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, শনিবার দেইর আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভেতরে চিকিৎসা সরঞ্জামের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবুকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আল-আকসা হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভেতরে একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা নিশ্চিত করেছে এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে যে, এতে একজন হামাস কমান্ডার আহত হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের আশেপাশে একটি বিস্ফোরক ডিভাইসও ফেলেছে।

গাজায় নতুন করে হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।