পাকিস্তানের কয়েকটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরান চাইলে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস হরমুজে নতুন করে ইরান মাইন বসিয়েছে বলে জানিয়েছে। এছাড়া গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরানচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইরানযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান লেগেছে ব্যাপকভাবে। এছাড়া ইরানের তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমপরিমাণ পাল্টা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। আল-জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, দ্য গাডিয়ান, রয়টার্স, এপি।

পাকিস্তানে পথে ইরানের প্রতিনিধি দল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধি দলের গতকাল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছার কথা। পাকিস্তানের কয়েকটি সরকারি সূত্র আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষ এ খবর নিশ্চিত করেছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসহাক দার নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়া তা শেষ হয়। এরপর দেশ দুটির মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদে দুটি হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অপরাধে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা বসতে ইরান এ পর্যন্ত রাজি হয়নি। কিন্তু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি জনবল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

ইরান চাইলে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে হেগসেথ এ কথা বলেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। হেগসেথ জানান, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবরোধ আরও কঠোর হচ্ছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এখন আর কোনো কিছুই (ইরানের বন্দরের) ভেতরে ঢুকবে না বা বাইরে আসবে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই অবরোধ কেবল বিস্তৃত হচ্ছে না, বরং এটি এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।’হেগসেথ সাফ জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে অফুরন্ত সময় আছে এবং আমরা চুক্তি করার জন্য মোটেও উদ্বিগ্ন বা তাড়াহুড়ো করছি না।’

হরমুজে নতুন করে মাইন বসিয়েছে ইরান

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে এই সপ্তাহে নতুন করে মাইন স্থাপন করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী। মার্কিন এক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে ইরান মাইন স্থাপন ও বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ আরও জোরদার করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, মাইন স্থাপনকারী যেকোনও ইরানি নৌযাজন দেখামাত্র ‘দ্বিধাহীনভাবে’ গুলি করে ধ্বংস করতে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, প্রণালিতে নতুন এই মাইন স্থাপনের ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের ফোনালাপ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ফোনালাপে তাঁরা ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। পৃথক এক প্রতিবেদনে তাসনিম নিউজ জানায়, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন আরাগচি। তাঁরাও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ তলানিতে

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে টান লেগেছে ব্যাপকভাবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই সংখ্যা মার্কিন মজুদের মোট পরিমাণের কাছাকাছি।

এক হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এটি প্রতি বছর কেনার পরিমাণের প্রায় ১০ গুণ। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও সংসদীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। প্রতিটির দাম ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। এ ছাড়া ১ হাজারেরও বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ৩৮ দিনের যুদ্ধে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা আসল চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণত একাধিকবার আঘাত করা হয়।

যুদ্ধের মোট খরচ নিয়ে হোয়াইট হাউস কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বলছে, খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। প্রথম দুই দিনেই ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন।

সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জ্যাক রিড এই সপ্তাহে বলেন, ‘বর্তমান উৎপাদনের গতিতে আমরা যা ব্যবহার করেছি তা পুনরায় মজুদ করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে।’

হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি ভেঙে যায়, তবে দেশটির হরমুজ প্রণালির সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বিবেচনায় থাকা বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি বিশেষ দিক হলো, ইরানের ‘ডায়নামিক টার্গেট’ বা চলন্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম; যা ব্যবহার করে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এসব জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দিয়ে যাচ্ছে এবং সব বিকল্পই এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে।’ সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের দফায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার ড্রোন অক্ষত রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তাদের কিছু সামরিক সম্পদ নতুন জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান চুক্তিতে না এলে এসব স্থানেও হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন এবং তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করবেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মার্কিন বাহিনী আবারও হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা হলে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমপরিমাণ পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাকাব এসফাহানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল করে, তবে আমাদের কৌশল হবে ‘‘চোখের বদলে চোখ’’। আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত করা হলে, যেদেশের মাটি ব্যবহার করে আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে, সেই দেশের তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’ তেহরানের আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে সাকাব এসফাহানি আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রতিনিধি দল ‘শত্রুর কলার চেপে ধরেছে’।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইরানিদের দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিষয়ে সব ধরনের ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুপেয় পানির প্ল্যান্টগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ারও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।