হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাদের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে। তাসনিম, আল-জাজিরা।
মোহেবি বলেন, ‘আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি উপাদান।’ তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সব শর্ত ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।’ এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে, সে বার্তাই দিল তেহরান। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবেÑ এমন ধারণাও নাকচ করেছে আইআরজিসি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির জাহাজে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ঘটনাটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়। আমিরাত জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।
তাদের মতে, এটি ইরানি রেভ্যুলেশনারি গার্ডের জলদস্যুতার শামিল। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। কাতারও এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করে। কাতার জানায়, আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানায় তারা।