মিরপুর-১১-এর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোড এলাকায় বিহারি অধ্যুষিত তালাব ক্যাম্প ও মিল্লাত ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী মাইয়্যেতের গোসলখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও মামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা- ১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেন।
আব্দুল বাতেন বলেন, ক্যাম্পবাসীর দীর্ঘদিনের মানবিক প্রয়োজন বিবেচনায় মাইয়্যেতের গোসলখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্যাম্পে কেউ মারা গেলে মরদেহ গোসল দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় অস্থায়ীভাবে কাপড় টানিয়ে গোসল ও কাফনের কাজ করতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং একটি অস্থায়ী শেড নির্মাণের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, গত ১১ আগস্ট থেকে প্রায় ১৫ দিন ধরে তালাব ক্যাম্পের পূর্ব অংশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করা হয়। তাঁর দাবি, ওই সময় কোনো পক্ষ থেকে বাধা বা আপত্তি জানানো হয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে নির্মাণকাজ শুরু হলে পানির পাম্প স্থাপনের কথা বলে কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
কর্নেল বাতেন বলেন, তালাব ক্যাম্প ও মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ছয়টি গভীর নলকূপ রয়েছে এবং মাইয়্যেতের গোসলখানা নির্মাণস্থলের পেছনেই একটি পানির পাম্প রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ওই স্থানে নতুন করে পাম্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মধ্যস্থতার নামে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয় এবং রাত ৮টায় থানায় সমঝোতা বৈঠকের জন্য মৌখিকভাবে সময় দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন অস্ত্রধারী সেখানে প্রবেশ করে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে তিনি দাবি করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৪ নম্বর রোডে অবস্থান নিলে মাগরিবের পর সেখানে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে ।
তিনি আরো বলেন, এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, লাঠি ও রড দিয়ে হামলা এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং বাড়িঘর, দোকানপাট ও নির্মাণাধীন মাইয়্যেতের গোসলখানার দেয়াল ভাঙচুর করা হয়।
কর্নেল বাতেন আরও বলেন:
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় বিহারি বাসিন্দারা রাস্তায় নামলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানকে মারধর করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে গভীর রাতে বিহারি বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। তিনি বলেন, দুটি মামলাতেই একই ধরনের বিবরণ এবং একই ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের নামও মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনাকে অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে করেন, “আমি শুধু জামায়াতের ভোটে এমপি নির্বাচিত হইনি। আমি ১৬ আসনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জনগণের কথাই আমার কথা। সাধারণ মানুষের ওপর জামায়াতের তকমা দিয়ে এভাবে হামলা ও গুলি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) সামনের সারির কয়েকজন নেতাকে দেখা গেছে । ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতী হয়ে থানার ওসি দায়িত্ব পালন করলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করবেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দাবিসমূহ:
- থানায় করা দুটি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে;
- আটক নেওয়াজ আহমেদ খানকে মুক্তি দিতে হবে;
- হামলায় জড়িত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে;
- হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা গ্রহণ করতে হবে;
- পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে;
- ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্নেল বাতেন বলেন, “সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো দলের তকমা দিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা, গুলি ও হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও পল্লবী মধ্য থানা সেক্রেটারি জুবায়ের হোসেন রাজনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।