মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তবে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মাহদী আমিন এ কথা বলেন। সভায় নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করাসহ সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, জাহেদ উর রহমান, বিশেষ সহকারী এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার, সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন ঘটনা ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়তো কিছুটা দুরূহ। তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।’
ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এর মূল কারণ, এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির সুদৃঢ় রাজনৈতিক দর্শন। এই ইশতেহারেই প্রতিফলিত হতে দেখেছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই ‘ভিশন ২০৩০’, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রণীত বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে আসা সেই ৩১ দফা। সুতরাং ঐতিহাসিক ১৯ দফা, ভিশন ২০৩০, ২৭ দফা ও ৩১ দফাÑএই চারটি মৌলিক বিষয় এবং নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ইশতেহারের আলোকেই আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ঠিক যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, ঠিক সে অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছিল, তা হলো কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা। প্রথম মন্ত্রিসভার সেই অনুমোদিত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে। এ সময় কৃষকদের ক্ষমতায়নে কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসীদের অধিকার ও সহায়তায় প্রবাসী কার্ড, এবং দেশজুড়ে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের জন্য সম্মানী ও খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরুর কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণের পরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দীর্ঘকাল পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি।
অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ফ্যাসিবাদের সরকার লোপাট করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এর ফলে ২০২২ সালের পর থেকে বিগত চার বছর ধরে সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাঁদের অবসর ও কল্যাণের ন্যায্য টাকা পাননি। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অর্থের সংস্থান করে দেন। দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধা, প্রথম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলড্রেস ও ব্যাগ প্রদান শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রাইমারি গোল্ডকাপে ছেলে, মেয়েসহ মোট ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেশজুড়ে একটি অভূতপূর্ব ক্রীড়া বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং কম্পিটিশন’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় ভাষায় দক্ষ বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে বাইরে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার কিছুটা প্রভাব এ দেশের ওপরও পড়েছে বলে জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন ‘গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
জনমানুষের আবেগ ও আকাক্সক্ষার প্রতীক ‘জুলাই জাদুঘর’ যেমন চালু করা হয়েছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার হাত প্রসারিত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আলাদা তহবিলের ব্যবস্থা ও শ্রমবান্ধব আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে জনবান্ধব বাজেটে, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে কর হ্রাস করা হয়েছে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত, জনবান্ধব ও সেবাধর্মী পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে।’ মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে পুলিশ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষ পূর্ণ আস্থা ফিরে পাচ্ছেন, মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির নির্বাচিত সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং মর্যাদা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন।
শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের : জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। গতকাল সোমবার দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করতে চাই, সেই সংস্কার কমিশনকে যারা সহায়তা করবে, তাদের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা দূর না করে কমিশন গঠন করলে ভালো কাজ হবে না। এ কারণে একটু সময় লাগছে। শিগগিরই হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনি ইশতেহারে যে কথা বলা আছে সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসে নাই। বরঞ্চ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং ‘ইন দি মিন টাইম’ কিছু প্রক্রিয়াও আপনারা দেখেছেন, কিছু কিছু কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিশেষ করে আগের সরকারের অনুগত কিছু ব্যক্তি এখনো প্রশাসনে রয়ে গেছেন। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে চিহ্নিত করে সেসব জায়গা পরিষ্কার করার একটি চেষ্টা আমরা করেছি এবং তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, ‘এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়। একই সময়ে প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, সেখান থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেটিও আমরা লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি। আমরা খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কমিশন করতে যাচ্ছি। আপনারা শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।’ গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণমাধ্যমের যারা কথা বলেছেন, তারা সবাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করেছেন।
তারা বলেছেন, এই প্রথম তারা কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অনুভব করেননি। এ কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক করার জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে তাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কোনো অমিল নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করে এনেছি। এখন আমরা একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া তৈরি করবে। এরপর আমরা এটি মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।’
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও সাফল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।