শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলা টেংরা মাদরাসা পাড়া এলাকায় ব্যাপকভাবে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, গত কয়েক বছর ধরে জামতলা এলাকায় ব্যাপকভাবে মাদকের ব্যবসা চলছে। গত আওয়ামী লীগ আমল থেকে এক দল অসাধু মাদক ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের যুব ও ছাত্রসমাজ।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে জামতলা টেংরা মাদরাসাপাড়া এলাকায় ব্যাপকভাবে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের ব্যবসা চলছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি এসব মাদকের কারবার চলছে। জানাগেছে, জামতলা টেংরা এলাকার আক্কেল আলী(৪৫), ইবাদুল ইসলাম (৩৫), মোঃ বাবু (৪৫), জসিম উদ্দিন(৩৫), মোঃ সুজন (২৪), রুহুল আমিন (৩৫), আলমগীর হোসেন (২৪), লুৎফর রহমান(৬০), জাকির হোসেন(৩৫), ই¯্রফিল হোসেন (৩৫), মিজাক আলী(৫০), ইমদাদুল (৩০)সহ অনেকে মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব মাদক ব্যবসায়ী সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক ও কর্মী বাহিনী। স্থানীয় দলীয় কথিত নেতা ও বাগআঁচড়া আইসি ক্যাম্পের কিছু অসাধু পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছে এসব মাদকের ব্যবসা।

সূত্রে জানাগেছে, সিন্টিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক বেচা কেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা জামতলা টেংরা বাজারে এসে মাদক ক্রয় করে নিয়ে যায়। আর এসম মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হয় দূরগামী পরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রো, প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেল। বর্তমান সময়ে প্রশাসনের তৎপরতা কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা রমরমাভাবে পরিচালনা করছে। সূত্রে আরও জানাগেছে, ঈদকে সামনে রেখে শার্শা উপজেলার, বাগআঁচড়া, নাভারন, কন্যাদাহ, বাহাদুরপুর, শিকারপুর, পুটখালীসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। আর এসম মাদক পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহর এলাকায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইন চার্জকে এম রবিউল ইসলাম জানান, শার্শা এলাকায় কোন প্রকার মাদকের স্থান নেই। তিনি বলেন, যদি কোন অসাধু মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যব করে তাহলে তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিলে তাদের নাম গোপন রেখে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং ধরা হবে মাদক ব্যবসায়ীকে। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জকে এম রবিউল ইসলাম শার্শা উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে ধরিয়ে দিতে সকল দেশ প্রেমিক নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিষয়টিতে প্রশাসনের দৃষ্টি প্রয়োজন।