জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাবেক অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণসমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। সমাবেশ থেকে বক্তারা জুলাই সনদ ও জুলাই চার্টার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে তা না হলে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চ (কাচারিপাড়) প্রাঙ্গণে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল আজিজ খন্দকার। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মোবারক হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিনি দাবি করেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার বিভাগের মাধ্যমে হত্যা এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলো ছিল দিনের ভোট রাতে, আমি-ডামি ও ভোট চুরির নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারেনি। সেই ক্ষোভ থেকেই ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনে বহু মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।
মোবারক হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় গণভোট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করেনি এবং জুলাই সনদ ও জুলাই চার্টারও বাস্তবায়ন করেনি। অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও জুলাই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সমাবেশের প্রধান বক্তা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মাঈনুল ইসলাম খন্দকার, জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফি, ছাত্রশক্তির জেলা শাখার আহ্বায়ক তাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান।