একসময় মাটির রাস্তা ছিল। সেই রাস্তা দিয়েই চলত বাস। কয়েকটি এলাকার মানুষ এ পথ ধরে সহজেই ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট—সড়কের অধিকাংশ অংশ পাকা হয়েছে। কিন্তু বন বিভাগের আপত্তি ও অনুমোদন জটিলতায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ থেমে আছে। আর এই এক কিলোমিটারই যেন আটকে দিয়েছে পুরো সড়কের সম্ভাবনা। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার আমতলা মোড় থেকে লোহাগাছ ফালু মার্কেট হয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর পর্যন্ত সড়কটির শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা ও সিংড়াতুলি সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখনো পাকা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আপত্তি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ওই অংশের নির্মাণকাজ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের মতে, এটি নিছক একটি সড়কের অসম্পূর্ণ অংশ নয়; এ পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও দীর্ঘদিনের যোগাযোগের প্রত্যাশা। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে শ্রীপুরের সঙ্গে গাজীপুর সদর এবং রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত খরচ কমবে।

‘এক কিলোমিটারের জন্য পুরো সড়কের সুফল মিলছে না’

বানিয়ারচালা এলাকার বাসিন্দা রানা আকন্দ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “এই রাস্তাটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এলাকার মানুষ ভালোভাবেই জানেন। একসময় রাস্তা কাঁচা থাকলেও এখানে বাস চলাচল করত। কয়েকটি এলাকার মানুষ এ পথ দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। এখন রাস্তার বেশিরভাগ অংশ পাকা হলেও মাত্র এক কিলোমিটার অংশের কারণে পুরো সড়কটির সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এ সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এবং বন বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”

বর্ষায় বাড়ে দুর্ভোগ

এলাকাবাসী জানান, সড়কটির অসম্পূর্ণ অংশের কারণে প্রতিদিনই বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও পড়েন দুর্ভোগে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কিংবা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তাদের দাবি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করে সড়কটির অসম্পূর্ণ এক কিলোমিটার অংশ দ্রুত পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘বনের বাধায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না’

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “বনের বাধার কারণে ওই অংশে সড়কের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বন বিভাগের মামলায় একজন ঠিকাদারকে জেলও খাটতে হয়েছে। বন বিভাগ মামলা করলে পরবর্তী সময়ে আমাদেরও সমস্যায় পড়তে হবে।”

তিনি বলেন, “বন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে সড়কটির ওই অংশের কাজ করা সম্ভব হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।”

দ্রুত সমাধান চান এলাকাবাসী

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ যোগাযোগপথের অধিকাংশ অংশ পাকা হওয়ার পরও মাত্র এক কিলোমিটার অসম্পূর্ণ থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল মিলছে না। তাদের মতে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা গেলে দ্রুতই সড়কটির কাজ শেষ করা সম্ভব।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে। তাদের প্রশ্ন—এক কিলোমিটার পথের জন্য আর কত দিন আটকে থাকবে কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ?

এ বিষয়ে শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।