আবদুল হাই ইদ্রিছী, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): চায়ের রাজ্যধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির পর কয়েক দিন থেকে প্রাণ ফিরেছে মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগিয়ে দুটি পাতার একটি কুঁড়িতে ভরে উঠেছে চা গাছগুলো। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রচন্ড তাপে ঝলসে গিয়েছিল বাগানের অধিকাংশ চা গাছ। অনেক স্থানে শুরু হয়েছিল লাল রোগের প্রাদুর্ভাব। চা উৎপাদন শুরুর মৌসুমেই মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানে কমে যায় চা উৎপাদনের গতি। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। বৃষ্টির দেখা মিললেও ভালো উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন না বাগান মালিক।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি চা বাগান ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। এতে হাসি ফুটেছে চা বাগান সংশ্লিষ্টদের মুখে। এখন বাগান রক্ষায় কৃত্রিম পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে (২০২৫ সালে) চায়ের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি।
২০২৩ সালে ১০৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। আর ২০২৪ সালে হয় ৯৩ মিলিয়ন কেজি। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১০% কম ছিল। দেশে নিবন্ধনকৃত চা বাগান রয়েছে ১৬৮টি। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রায়িত অনেকগুলো চা বাগান। পঞ্চগড় ও দেশের ১৬৮টি চা বাগান মিলিয়ে ২০২৫ এর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি। প্রকৃতি নির্ভর একটি কৃষিজ পণ্য চা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চায়ের উৎপাদনও ভালো হয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিমিত বৃষ্টি ও সূর্য কিরণ।
অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি পড়ল জেলার চা বাগানগুলোতে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা অনেকটাই খুশি হয়েছেন। দু’ এক দিনের মধ্যে আবারও বৃষ্টি দেখা দিলে ভাল ফলনের সম্ভাবনার পাশাপাশি আপাতত বাগান রক্ষায় কৃত্রিম পানি দেয়া প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।