বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। তাই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্ররা যে আকাক্সক্ষা ও দাবি থেকে জীবন দিয়েছে, তা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশিকুজ্জামান আকাশের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাসিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন খান, ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগরী (দক্ষিণ) সভাপতি ইবরাহিম রনি, জেলা মসজিদ মিশন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসাইন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আফতাব হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু বকর সিদ্দিক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হাসানুল বান্না উজ্জল, ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি আবু তালেব, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন, শামীম হোসেন ও খায়রুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম ও বেলাল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মঞ্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, বিগত দিনে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও মাদকের স্বর্গরাজ্যসহ অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল। ছাত্রশিবির চায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত হোক। সব রাজনৈতিক, সব ইসলামী দলের ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

বড়াইগ্রামে উদ্বোধনের আগেই জামায়াত অফিস ভাংচুর : নাটোরের বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের দিয়াড় গাঁড়ফা লেদ মোড়ে উদ্বোধনের আগেই জামায়াত অফিস উপর্যুপরি দু-দফা ভাংচুর করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে অফিস ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে দিয়াড়-গাড়ফা লেদ মোড়ে একটি অফিস করার উদ্যোগ নেন জামায়াত নেতা কর্মীরা। কিন্তু তার পাশেই বিপরীত দিকে বিএনপি নেতা হাসিনুর রহমান মাষ্টারের একটি অফিস থাকায় তিনি জামায়াত অফিস করতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। সেই বাধা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার অফিস উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেয় জামায়াত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসিনুর রহমান তার সমর্থকদের নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা অফিসের আসবাবপত্র ও চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চান্দাই ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আলম বলেন, তারা সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে আমাদের অফিস ভাংচুর করেছে। আমরা এর বিচার চাই। চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসিনুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না হওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, পাশাপাশি অফিস করা নিয়ে আপত্তি ছিল এবং সে কারণেই জামায়াত অফিস ভাংচুর করা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জেনেছি।