খুলনা ব্যুরো : আনন্দঘন পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনায় ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৮টায় খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন খুলনার প্রবীণ আলেম, জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মোহম্মদ সালেহ।

প্রধান জামাতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। এছাড়া ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করেন মুসুল্লীরা। পরে মুসল্লীরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এদিকে সকাল নয়টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর-জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, খুলনা ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দান, খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান, পিটিআই জামে মসজিদ, কেডিএ নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদরাসা, দারুল উলুম মাদরাসা, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, শিপইয়ার্ড, লবনচরা, চাঁনমারী, রূপসা, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনী মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, জেলা পুলিশ লাইন, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস, বিএল কলেজ, দেয়ানা ঈদগাহ, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা, খানজাহান নগর খালাসী মাদরাসা ঈদগাহ ও দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানার ঈদগাহ ময়দানসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদ এবং ময়দানে ঈদের জামাত অনুুষ্ঠিত হয়।

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।

এদিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর জামাত সকাল সাড়ে ৭ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে ভাইস-চ্যান্সেলর (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ শরীফুল আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। জামাত শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা ব্যুরো : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছে। গণমানুষের সেই আকাঙ্খা পূরণের জন্য জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদেরকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা শাসক না হয়ে জনগণের সেবক হবো। এই জমিনে ইসলামের বিজয়ের পতাকা না উড়ানো পর্যন্ত যে কোন ত্যাগ ও কুরবানী দিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতা-কর্মী প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

কয়রা উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে উপজেলা সেক্রেটারি শেখ সাইফুল্লাহ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবু তাহের, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কয়রা সদর ইউনিয়ন আমীর মিজানুর রহমান, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন আমীর মাস্টার নূর কামাল হোসেন, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান, মহারাজপুর ইউনিয়ন আমীর সাইফুল্লাহ হায়দার, বাগালী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, আমাদী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আমীর আবু সাইদ।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যেই ফ্যাসিবাদী শক্তি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, আজ তারাই জনগণের কাছে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী সকল বাধা অতিক্রম করে তার লক্ষ্য পানে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা কোনদিনও সফল হতে পারবে না। আগামী দিনে এই জাতিকে সৎ, দক্ষ, চাঁদাবাজমুক্ত নেতৃত্ব উপহার দিতে আপনাদেরকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।

অপরদিকে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বেলা ৩ টায় কয়রা উপজেলা ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ের অডিটোরিয়াে খুলনা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদেরকে নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ওয়েজকুরুনীর পরিচালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সাবেক জেলা সভাপতিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা মাসুদুর রহমান, আব্দুর রহিম, স ম আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান মন্টু, রুহুল আমিন, রুহুল কুদ্দুস, জি এম মোনায়েম বিল্লাহ, আল আমিন, ইসহাক হোসেন, সোলাইমান হোসেন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ আজম, সাবেক জেলা অফিস সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, জাহিদুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দিদারুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ। বর্তমান ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা সাথী শাখার সভাপতি সামিউল ইসলাম, ছাত্রশিবির কয়রা দক্ষিণ শাখার সভাপতি আসমাতুল্লাহসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীলবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কয়রা উপজেলার আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ, আমাদী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, কয়রা সদর ইউনিয়ন আমীর মিজানুর রহমান, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান, বাগালী ইউনিয়ন সাবেক আমীর প্রফেসর ওলিউল্লাহ উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা সুজাউদ্দীন, কয়রা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট আওসাফুর রহমানসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন- ’৭১ এ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ। তাছাড়া বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদের দোসরদের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সরকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়ায় জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলন শিবিরের সাবেক - বর্তমান ভাইদের ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কলারোয়া -তালা আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ‘জন্মস্থানের একটা মায়া, একটা ভালোবাসা আছে। যদিও জালেমের সীমাহীন জুলুমের কারণে দীর্ঘ সময় আপনাদের সাথে এভাবে হৃদ্যতা মন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। দুঃশাসন এবং জালিমদের জুলুমের কারণে আপনাদের মুখ দেখতে পারিনি। তবে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের হতাশার কিছু নেই। জুলুম-নিপীড়ন ও ফাঁসি দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। এই আঁধার কেটে যাবে। প্রচলিত সকল ভ্রান্ত মতবাদের উপর ইসলামের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা।’ ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটা শোষণমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই’। যেখানে হিন্দু মুসলিম কিংবা মেজরিটি মাইনরিট বলে কিছু থাকবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীর নির্বাচনকে একটা মাইলফলক হিসেবে নিতে চায়। ইসলামী জনতার জন্য ভোটের একটা বাক্স যেন হয় এ ব্যাপারে আমীরে জামায়াত এর চেষ্টা অব্যাহত আছে। ১৯৯১- ৯৬ সাল পর্যন্ত মরহুম শেখ আনসার আলী সাহেবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাঝখানে বিরাট একটা গ্যাপ হয়ে গেছে। জনগণের সেবার মাধ্যমে তালা-কলারোয়া নেতৃত্বের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যেন আমাদের নেতৃত্বের ধারা এখানে যেন চলমান থাকে। সে ব্যাপারে আমাদের সকল পর্যায়ে নেতা কর্মীদেরকে নিজেদের আমল ও আচরণ দ্বারা মানুষের মন জয় করতে হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন গত ১লা এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক - বর্তমান ভাইদের ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘মজলুম জনপদ সাতক্ষীরা ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ঘাটি। বুলডোজার দিয়ে দায়িত্বশীলের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নজির এ জেলাতে জালেমরা করেছে। সেই জালিমদের হাতে দেশটা যেন আর না যায়। এই দেশটা আপনাদের হাতে দেখতে চাই। এমন একটা দেশ দেখতে চাই ,চাদাবাজ, ঘোষখোর, সুদখোর জুলুম ও নির্যাতন কারীদের এই বাংলার মাটিতে ঠাঁই হবে না। আপনাদের চাওয়ায় কি এক ? যদি এক হয়, তাহলে শুনে রাখুন লড়াই আমাদের শেষ হয় নি, এ লড়াই কেবল শুরু। শহীদের পরিবারের চোখের পানি যতদিন ঝরবে, ততদিন এ লড়াই চলবে। যতদিন এই দেশে আল্লাহর আইন, মানবতার আইন, মানবিক আইন প্রতিষ্ঠিত না হয়। ততদিন আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে কেউ থামাতে পারবে না । ইনশাআল্লাহ।

কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি মু ,শামছুল আলম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মু. শরীফুজ্জামান মিঠুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, খুলনা মহানগর সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গণি, জেলা ইউনিট সদস্য মাওলানা ওমর আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামারুজ্জামান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি ইমামুল ইসলাম,শহর শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু, মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য এ কে এম কোরবান আলী ও মাওলানা আহমদ আলী।

এছাড়া অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেক্রেটারি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের শেরেবাংলা নগর থানার সেক্রেটারি মোঃ তারিফুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম সমন্বয়ক হাসান আল বান্না, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সহ সম্পাদক রায়হান মাহমুদ, সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আইয়ুব আলী, মাওলানা রেজাউল করীম প্রমুখ।

তালা (সাতক্ষীরা) : ১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তালা উপজেলা শাখার আয়োজনে সুজনসাহা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা কলারোয়া সংসদীয় আসনের নোমিনি অধ্যাক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, বিশেষ অতিথি সাতক্ষীরা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডাক্তার মাহমুদুল হক, তালা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী এর উপস্থাপনায় এবং তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হাদিউজ্জামান হাদী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার ভিপি রিজাউল হক শাওন, ঢাকা দক্ষিণের জামাতের রোকন এবং ইসলামকাটি ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা তৈয়েবুর রহমান, কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আহমাদ আলী। সাতক্ষীরা শহর শাখার সেক্রেটারি মোঃ খুরশিদ আলম। ঢাকা মোহাম্মদপুরের দায়িত্বশীল মনিররুজ্জাম শামীম, ঢাকা মিরপুর শাহ আলী থানার অঞ্চলের দায়িত্বশীল মোঃ হাফিজুর রহমান ৭ নম্বর ইসলাম কাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক, ০৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য শেখ আব্দুল হাকিম সহ সাবেক ছাত্রশিবির এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন বিগত প্রায় ১৬ বছর পর এবারের ঈদ দেশের মানুষ শংকাবিহীন ভাবে উদযাপন করতে পারছে। কিন্তু আমাদের ঈদের খুশি ততদিন পূর্ণতা পাবেনা যতদিন না দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পারবো। আর বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রথম শর্তই হলো সৎ লোকের শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আর এর জন্য আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই আজ থেকে আমাদের অঙ্গীকার হবে যতদিন সেই স্বপ্ন পূরণ না হবে ততদিন আমাদের কোনো বিশ্রাম নেই।

পাথরঘাটা (বরগুনা) : বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত জামায়াত কর্মীরা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত করেছে। বুধবার সকাল ৮ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত পৌরশহরের ইমান আলী সড়কের জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাথরঘাটা উপজেলার উদ্যোগে এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মো. মুহিব্বুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ। জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, সমাজকে শান্তি শৃঙ্খলায় রাখার জন্য কখনো নেতৃত্ব শূন্য রাখা যাবে না। ভালো মানুষ এগিয়ে না আসলে খারাপ মানুষরা এগিয়ে যাবে। যেটা আপনাদের সামনে এখন দেখতে পাচ্ছেন। তাই সকল ক্ষেত্রে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যা কম নিয়ে বিব্রত হবে না, সংখ্যা দিয়ে ইসলামের বিজয় হয় না। কোন ব্যক্তির জন্য কাজ করবেন না, আল্লাহর জন্য কাজ করবেন। তাহলে কখনোই পরাজিত হবেন না। আল্লাহ এবং রাসুলের কখনো পরাজিত হবেন না। যখন আমরা আল্লাহর জন্য কাজ করবো, তখন আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।