নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে গত আট মাসে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্তর্দলীয় কোন্দলে ৭ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। দলীয় কোন্দল, জমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
যার মধ্যে নগরীতে তিনজন এবং রাউজান, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড ও মীরসরাইয়ে একজন করে খুন হন। প্রায় প্রতিটি হত্যার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। কোনো কোনো ঘটনায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আবার কোনো ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে হত্যাকণ্ডে জড়িতদের।
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও এলাকায় একটি খেলার মাঠ দখল নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছুরিকাঘাতে জুবায়ের উদ্দীন বাবু (২৫) নামে যুবদলের এক কর্মী নিহত হন।
এর পর গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সংঘাতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ ইমন (২৮) নামের আরেক যুবক খুন হন।
গত ১৮ মার্চ রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মো. রমজান আলী (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।
১৫ মার্চ রাতে রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের আমির হাটে বাজারে কমর উদ্দিন টিটু (৩৬)নামে সৌদি প্রবাসী এক যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মহিউদ্দিন জীবন ও তার অনুসারীরা তাকে হত্যা করে।
২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটা ছরারকূল এলাকায় কৃষক দলনেতা নাছির উদ্দিন (৪০) নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
২৬ মার্চ দুপুরে মীরসরাইয়ে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছুরিকাঘাতে জাবেদ (৪৫) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ প্রাণ আরএফএল কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা ছিলেন।
২১ মার্চ রাতে আটটার দিকে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম শাহ আলমের অনুসারী ও নগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
২১ মার্চ রাতে নগরের জিইসি মোড়ে ঈদের শুভেচ্ছা ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলীবিদ্ধ মো. জিহাদ (২৭) নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোরে নগরের বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম শাহ আলমের অনুসারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ওসি আফতার হোসেন বলেন, ‘বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলীর ঘটনায় গুলীবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন জিহাদ ১২ দিন পর মারা গেছে। এ ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। চারজনকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার টাঙানো নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে কুসুমবাগ এলাকায় তারা মুখোমুখি হয়। সেখানে উভয় পক্ষের গোলাগুলী হয়। গোলাগুলীর ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খুলশী থানার তৎকালীন ওসি মুজিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত বড় নেতা হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যে সমস্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।