পাবনায় সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে এক কিশোরীকে নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী কিশোরীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে পাবনাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে তাকে পাবনা শহরের খেয়াঘাটপাড়া এলাকার ‘খন্দকার টাওয়ার’-এ জহুরুল ইসলামের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী।
ঘটনার বিচার ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনভর পুলিশি তৎপরতার পর রাতের দিকে তার কাছ থেকে লিখিত এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা দিনভর বিষয়টি তদন্ত করেছি। তদন্তে সদর সার্কেল অফিসার, নারী ও শিশু বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আমি অংশ নিয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরবর্তী বিষয়ে পরে জানানো হবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের পদবী ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্ম করার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে।
এদিকে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আখতার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে এবং বর্তমান ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে তিনি মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগী শিশু বা কিশোরী হলে শিশুর সুরক্ষা ও পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টিও আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে ‘সচেতন পাবনার নারী সমাজ ও পাবনাবাসী’।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক, সামাজিক বা পেশাগতভাবে প্রভাবশালী হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের ন্যায়সংগত প্রতিকার—উভয়ই নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে কিশোরীর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রেখে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি সাংবাদিক সচেতন মহল মনে করে।