বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন বলেছেন, আগামী ১০ অক্টোবর খুলনা বিভাগের লংমার্চে যশোরে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সমাবেশ হবে, ইনশাআল্লাহ। বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনদুর্ভোগ নিরসনসহ জনগণের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সরকার দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সদর উপজেলা ইউনিয়ন আমির ও সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জেলা মহিলা কর্মপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শিক্ষা শিবির, যশোর সদর উপজেলার ইউনিয়ন আমির ও সভাপতি সম্মেলন এবং যশোর শহর শাখার দায়িত্বশীলদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর সদর উপজেলা আমির অধ্যাপক আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আমির ও সভাপতি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি, যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসাইন উপস্থিত ইউনিয়ন আমির ও সভাপতিদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে হবে এবং ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রেখে ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মোবারক হোসাইন বলেন, “ওই লংমার্চে আমি দায়িত্বে ছিলাম। চট্টগ্রামের লালদিঘি থেকে পটিয়া পর্যন্ত পথে পথে অনুষ্ঠিত পথসভাগুলো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। কুমিল্লা, ফেনী, মীরসরাই, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।”

তিনি বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরপর ১০ অক্টোবর খুলনা বিভাগের লংমার্চ ঢাকার পল্টন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। যশোরের লংমার্চকে স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যশোরে ইতিহাসের সেরা লংমার্চ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের দাবি-দাওয়া পূরণে ব্যর্থ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে হতে পারে। তবে অযথা সংঘাত নয়, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়েই আন্দোলন পরিচালিত হবে। সরকারের বোধোদয় হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। অন্যথায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। সেই আন্দোলনে যশোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে হবে এবং ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল হক কল্লোল, মাওলানা জহুরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।