ফুলপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ফুলপুরে মমিনুল হক নামে এক সমন্বয়কের বিরুদ্ধে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজিসহ প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মমিনুল হক অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের দেওখালী গ্রামের মোজাম্মেল হকের পুত্র মমিনুল হক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্য সচিব পরিচয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আপন চাচাসহ পূর্ব শত্রুতায় অনেককেই আসামী দেয়া এবং মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। এ ব্যাপারে ফুলপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একদল ছাত্র সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ভুয়া সমন্বয়ক আখ্যা দিয়ে অপকর্মের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মমিনুল হকের চাচাত ভাই জোবায়েল আহমেদ জানান, সে আওয়ামী লীগ করত। গত সংসদ নির্বাচনে খড়িয়াপড়া কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টও ছিল। বর্তমানে ভুয়াভাবে সমন্বয়ক সেজেছে। পৈত্রিক জায়গার ঘর ভেঙ্গে নতুন করে করতে গেলে সমন্বয়কের প্রভাব খাটিয়ে বাধা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন মাস ধরে ছাপরা ঘর বেঁধেও খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। বিচার চেয়েও পাচ্ছি না। আমাদের পক্ষে কথা বলায় চাচা এমদাদুল হক, মামা শফিকুল ইসলাম ও প্রতিবেশি সাইফুল ইসলামকে আসামী দিয়েছে। সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, এখন মামলা থেকে নাম কাটার কথা বলে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। সখল্যা গ্রামের শফিউল আলম তপু জানান, দলীয় মামলা থেকে রক্ষার কথা বলে মমিনুল হক তার সহকারি ওবায়দুল হককে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। যার প্রমাণসহ ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। খড়িয়াপাড়া গ্রামের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের আগে মমিনুল হককে মাঠে দেখি নাই। পরে ছাত্রলীগের কয়েকজনকে নিয়ে ভাইটকান্দি বাজারে ঘর দখলসহ নানান অপকর্ম শুরু করে। প্রতিবাদ করায় আমার উপর হামলা করেছে। পুরাপুটিয়া গ্রামের রুহুল আমিন জানান, আমি বিএনপি করলেও তার আওয়ামী লীগ সমর্থিত আত্মীয়র সাথে বিরোধ থাকায় মামলায় আসামী দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অনেকে জানান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরোধী গ্রুপ করায় দল ক্ষমতায় থাকার সময় আমরা বঞ্চিত ছিলাম। মামলায় আসামী না করার কথা বলে টাকা চেয়েছিল। না দেয়ায় জড়িতদের অধিকাংশ বাদ দিয়ে মাঠে না থাকলেও আমাদের অনেককেই আসামী দিয়েছে। বিলাসাটি গ্রামের আব্দুল মোতালেব জানান, এরআগে সে ভুয়া অভিযোগপত্রে নাম লিখে দেখিয়ে বাদ দেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে মমিনুল হক জানান, চাচা আমাদের জায়গায় ঘর করতে চাওয়ায় নিষেধ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিরোধী পক্ষ ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছি। ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাদি জানান, মামলা দায়েরের পর বাদীর আর কিছু করার থাকে না। তদন্ত চলছে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় মামলা হয়েছে।