কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো: মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের পর্যটকরা এসেছেন। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত দর্শনার্থী আসছেন সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। হোটেল-মোটেল পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়েছে। সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, সাদা পাথর, সিলেটের লাক্কাতুরা ও মালনীছড়া চা বাগানে পুরুষ-মহিলা ও শিশুদের পদচারনায় মুখরিত। আজ শুক্রবার হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহপরাণ (রহঃ) এবং সিলেটের প্রথম মুসলমান হযরত বুরহান উদ্দীন (রহঃ) মাজারে লোকেলোকারণ্য হবে বলে ধারণা করছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। আগত মুসল্লিদের ইবাদতের সুযোগ দিতে মাজার কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে।

সিলেটে আসা পর্যটকদের কোলাহলেই মুখরিত এখন জাফলং এলাকা। প্রকৃতিকন্যা হিসেবে খ্যাত সিলেটের জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। আগামী শুক্র ও শনিবার এ ভিড় আরও বাড়তে থাকবে। কেউ এসেছেন বিমানে, কেউ এসেছেন ট্রেনে, আবার কেউ নিজস্ব বাস রিজার্ভ করে সপরিবারে এসেছেন সিলেটে। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রিয় মানুষজন বন্ধুবান্ধব পরিবার পরিজন নিয়ে আসেন দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেটে। তাই অন্যান্য সময়ের মতো এবারও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। আর এতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার সব কটি পর্যটনকেন্দ্র। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের ৪র্থ দিনেও উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় দেখা গেছে ভ্রমণপ্রিয়দের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে মেঘ-পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল ছাড়াও পানতুমাই ঝরনা, জাফলং চা বাগান ও মায়াবী ঝরনা পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নীলফামারী থেকে আসা পর্যটক নাসরিন আক্তার জানান, তিনি সহ তার পরিবারের ৩১ জন সদস্য মিলে একটি বাস রিজার্ভ করে গত মঙ্গলবার এসেছেন হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর পূণ্যভূমি সিলেটে। মাজার জিয়ারত শেষে জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে তাঁরা বিমোহিত হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সত্যিই এক অপরুপ দৃশ্য পাহাড় ঘেরা জাফলং, মহান আল্লাহ যেন পাথরগুলো নিজ হাতে স্তরে স্তরে সাজিয়েছেন, যা আমাদের মত অন্যান্য পর্যটকদেরও মন কেড়েছে। পর্যটকরা জানান, পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ পানির সমাহার দেখে তাঁরা বিমোহিত হয়েছেন। নাসরিনদের মতো পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকেই এসেছেন সিলেটের প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেঙ্গল থানার পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরপরও পর্যটকদের পুরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিবি ও সিটিএসবি’র সদস্যরা কাজ করছেন।