শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কয়েক বছর আগেও সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ-শ্যামনগর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে তাঁতশিল্প ছিল জমজমাট। হাতের তাঁতের খট খট শব্দে মুখরিত থাকতো গ্রামটি। কিন্তু বর্তমানে সুতার দাম বৃদ্ধি, কঠোর পরিশ্রমে কম মজুরি আর যান্ত্রিক তাঁতযন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা বদল করছেন তাঁতীরা। কালের বিবর্তনে আজ বিলুপ্তির পথে আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ তাঁতশিল্প।
কালিগঞ্জের নলতা, সোনাটিকারী গ্রামসহ ১৫-১৬টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা এক সময় তাঁত বুনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আগে ওই এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে তাঁত থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০-৪০টি পরিবারে তাঁত রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের কয়েকজন মানুষ বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রাখতে তাঁতের কাজ করেন। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ তাঁতীসহ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বেকার হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁতীরা কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ রাজমিস্ত্রির সহকারী, কেউ রিকশাভ্যান চালক, আবার কেউ মুদি দোকানে কাজ করছেন।
তাঁতীরা জানান, একসময় নলতা গ্রামের পাঁচ শতাধিক তাঁতী পরিবার ছিল। প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁত শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখানকার তৈরি লুঙ্গি, গামছা ও তোয়ালের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ এর নলতা ও নাজিমগঞ্জ তাঁতের তৈরি কাপড়ের বড় বাজার ছিল। এখন শুধু গামছা তৈরি করে তাঁত শিল্পের অস্তিত্ব কোনো রকম টিকিয়ে রেখেছেন কেউ কেউ।
তাঁতীদের দুরাবস্থার কারণ সম্পর্কে তাঁতীরা জানান, কাঁচামাল ও সুতার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাপড়ের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় তাঁতের তৈরি কাপড়ের মূল্য বাড়েনি। সারাদিন কাজ করে ৪ পিছ গামছা তৈরি করে আয় হয় ৪০-৫০ টাকা। অন্যদিকে যন্ত্রচালিত তাঁতযন্ত্রের কাপড় বাজারে আসায় হাতের তাঁতের তৈরি কাপড়ের চাহিদা কমে গেছে। তাই সহজে কাপড়ের দামও বাড়ানো যায় না। এ কারণে অনেকেই হাতে চালানো তাঁত মেশিন কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকেই বাড়িতে ফেলে রেখেছেন।