দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চরের বাথান থেকে লুটকরা প্রায় দেড় কোটি টাকার ৪৬টি মহিষ উদ্ধার হয়নি আজও। দেড়মাস পার হলেও লুট হওয়া মহিষ উদ্ধার না হওয়ায় মহিষের বাথান মালিকের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। এদিকে মহিষ লুটকারী সন্ত্রাসীরা এলাকায় বহাল তবিয়তে থেকে প্রকাশ্যে অপরাধ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও পুলিশ রয়েছে নির্বাকার। তবে পুলিশের দাবি লুট হওয়ার মহিষের মধ্যে ৬টি মহিষ উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম প্রামানিকের ছেলে রাজু হোসেন (১৮) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পদ্মার চরে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন সকালে একই এলাকার সাঈদ মন্ডলের চরের বাথান থেকে ৪৬টি মহিষ লুট করে সন্ত্রাসীরা। একইদিন রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকায় কালু কবিরাজের বাথান থেকে ৩৪টি গরু লুট করা হয়। কালু কবিরাজ সন্ত্রাসীদের ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিয়ে ৩০টি গরু ফেরত পেলেও ৪টি গরু বিক্রি করে সে অর্থও ভাগাভাগি করে নেয় সন্ত্র্রাসীরা। তবে বাথান মালিক সাঈদের লুট হওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকার ৪৬টি মহিষ আজও ফেরত দেয়নি সন্ত্রাসীরা। মরিচা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে তার লোকজন মহিষ লুট করে নেয় বলে সেসময় দৌলতপুর থানায় অভিযোগ করেন সাঈদ মন্ডলের স্ত্রী তমা খাতুন। অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানা পুলিশ মরিচা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। লুটকরা মহিষ ফেরত দেওয়ার শর্তে মুচলেখা নিয়ে থানা থেকে সাইদুর রহমানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু ঘটনার দেড়মাস পার হলেও আজও ফেরত দেয়নি লুট হওয়া মহিষ।