বিগত সরকারের সময় জারিকৃত যে সব অধ্যাদেশ সর্ম্পকে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেগুলো রহিতকরণের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন গতকাল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিতকরণ কল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন।
এদিকে দেশের ক্ষয়প্রাপ্ত চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে গতকাল 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬' উত্থাপন করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন আইনটি অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের কারণে চাষযোগ্য জমির অব্যাহত ক্ষয় রোধে কার্যকর হবে।
বিল অনুযায়ী তামাক চাষ, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে, তিন বা ততোধিক ফসলের জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলের জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের সব জমি (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ছাড়া) একটি জাতীয় জোন ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠ যাচাই ব্যবহার করে জমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। ফসলী জমি, বিশেষ চাষযোগ্য অঞ্চল ও উচ্চফসলী জমি মূলত কৃষি কাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এগুলোতে অ-কৃষিকাজ করা যাবে না। মোট চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অ-কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদ- ও জরিমানা এবং প্রয়োজনে ভূমি মূল অবস্থায় পুনরুদ্ধার বাধ্যতামূলক। সব সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে আইন মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসন অবৈধ জমি ব্যবহার ও নির্মাণ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি প্রযোজ্য, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা যাবে।
বিল পাশ হলে বাংলাদেশে আরও কাঠামোবদ্ধ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক জমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হবে, যা উন্নয়ন, পরিবেশ ও কৃষি সংরক্ষণকে সামঞ্জস্য করবে।