বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক নিরীহ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত সোমবার বাদ মাগরিব ইসলামী ফাউন্ডেশনের সাবেক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আলী বলেন, বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সেবা গ্রহীতারা ইউনিয়ন পরিষদের কর্তা ব্যক্তিদের দ্বারা বিভিন্ন ধরনের অন্যায় দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের অন্যায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়ন সংগঠন একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী জামায়াতের মানববন্ধনে অতর্কিত ভাবে হামলা করে। একই দিন দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান থানায় দোষীদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে বাঘা থানার পুলিশ ঘটনা তদন্ত করেন। ২৩/৩/২০২৫ তারিখে বাঘা থানার ওসির মধ্যস্থতায় স্বাভাবিক মীমাংসা হয়। যা মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী তার স্বাভাবিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু গত ৩০ মার্চ পূর্ব কোনো ঘটনা ছাড়াই বাউসা ইউনিয়নের দীঘা ওয়ার্ডের ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি সৌরভের উপরে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। সৌরভ ওইদিন আড়ানী থেকে তার সাংগঠনিক কাজ শেষ করে দীঘায় তার বাড়িতে ফিরছিল। প্রতিমধ্যে রাস্তার এক নির্জন জায়গায় বাউসা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিমের ভাতিজা আরাফাতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সৌরভের পথ রোধ করে এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করে। সেই সময় সৌরভের চিৎকার চেঁচামেচিতে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় সৌরভকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সৌরভ এখনো বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। আহত সৌরভের সহকর্মীবৃন্দ তার বাড়িতে তার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে বাউসা বাজারে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।
এই ঘটনায় শিবির কর্মী মারুফ, মুন্না, এবং ফয়সালকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যখম করে এবং তাদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা বাউসা বাজারে অবস্থিত জামায়াত সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটপাট করে। তন্মধ্যে বাউসা বাজারের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী টুটুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ দেড় লক্ষ টাকা লুটপাট করে। এ ঘটনায় আহত শিবির কর্মী ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। এছাড়া গতরাতে বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীরা রাত দশটার পর থেকে নিরীহ জামায়াত-শিবির নেতা কর্মীদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো নৃশংস খেলায় মেতে উঠে। তারা বাউসা ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মিজানুর রহমান শিল্পীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে তার বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার বাদাম লুটপাট করে। বাউসার শিবির কর্মী রোহানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং তার বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং দুইটি বাইসাইকেল লুটপাট করে বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীরা। একই সময়ে শিবিরকর্মী রোহানের বাবার বাউসা বাজারে অবস্থিত স-মিলে হামলা ভাঙচুর করে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা জিন্নাত আলী, জামায়াতের নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল লতিফসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।