মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ভিটিমালধা গ্রামের কালীবাড়ি রোডে চন্দ্রপাড়া এলাকার একটি নির্দিষ্ট পীরের অনুসারীদের জন্য পৃথক কবরস্থান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২২ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত ওই কবরস্থানে শুধু চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারীদেরই দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বিটি মালধা এলাকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ওই কবরস্থানে শুধু চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারীদের দাফন করা হয়। তাঁদের বাইরে অন্য কোনো মুসলমানকে সেখানে দাফন করা হয় না।
আব্দুর রহমান নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৩ সালে চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারী স্থানীয় বাসিন্দা সামাদ বেপারী ও নুরুল ইসলাম বেপারী জমি দানের মাধ্যমে কবরস্থানটির কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দ্রপাড়া এলাকায়ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পীরের অনুসারীদের জন্য পৃথক কবরস্থান ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। একই এলাকার মুসলমানদের মধ্যে কবরস্থান ব্যবহারে এমন বিভাজন সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন আলেম বলেন, ইসলামে মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু মত, তরিকা বা কোনো পীরের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক বিভাজন তৈরি হওয়া উচিত নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় আলেম বলেন, “মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য অটুট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কবরস্থান নিয়ে যদি এমন কোনো ব্যবস্থা থাকে, যা সমাজে বিভাজনের ধারণা তৈরি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আলেম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ মনে করেন, ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকলেও মৃত্যুর পর দাফনকে কেন্দ্র করে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়া কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, আলেম সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন বলেও তাঁরা মনে করছেন।
তবে চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের পক্ষ থেকে পৃথক কবরস্থান ব্যবহারের কারণ, ব্যবস্থাপনা ও এর নীতিমালা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের একটি অংশ জুমার নামাজও পৃথকভাবে আদায় করেন।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে যেন সামাজিক বিরোধ বা বিভাজন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন।