মোংলা সংবাদদাতা : মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আতিকুর রহমান। সমুদ্রবন্দর, সুন্দরবনের সংলগ্নতা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কারণে এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংবেদনশীল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সামনে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে।
পূর্ববর্তী ওসির স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলি নিয়ে আলোচনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ওসির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বন্দর, বনাঞ্চল ও সমতল এলাকায় সক্রিয় অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর প্রধান কাজ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পশুর নদীসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া নৌযান ব্যবহার করে জাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ, জ্বালানি ও মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। নোঙর করা কার্গো ও লাইটার জাহাজ থেকেও পণ্য চুরির ঘটনা ঘটছে, যা বন্দর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরনখোলা এলাকায় বনদস্যুদের সক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী পাচারের মতো অপরাধ বাড়ছে। এসব দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সমতল এলাকায় জমি ও মাছের ঘের দখল নিয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল ও হয়রানি পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
মোংলা মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সুন্দরবনের দুর্গম জলপথ দিয়ে বড় চালান প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সচেতন মহলের মতে, অপরাধ ও মাদকের ট্রানজিট রুট হিসেবে মোংলাকে ব্যবহারের প্রবণতা রোধে নজরদারি বাড়ানো এবং মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে বন্দর নিরাপত্তা, দস্যুতা দমন, ভূমিদখল রোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ—এই চার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপই মোংলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।